নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি

বন্দরে হত্যা মামলার আসামি আ’লীগ নেতা আইয়ুব মেম্বার প্রকাশ্যে হলেও অধরা‎

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৯:১২, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৭, ২৯ জুলাই ২০২৬

বন্দরে হত্যা মামলার আসামি আ’লীগ নেতা আইয়ুব মেম্বার প্রকাশ্যে হলেও অধরা‎

বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আইয়ুব মেম্বার বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

‎‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইয়ুব মেম্বার বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। 

‎‎অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. রশিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান, ড্রেজার প্রকল্পের নামে অনিয়ম, রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে বিক্রি এবং ইট-বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির মতো নানা অভিযোগ রয়েছে।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইস্পাহানী, মালামত, চৌরাবাড়ী, ভাংতি বটতলা, গোকুলদাসেরবাগ ও মদনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আইয়ুব মেম্বারের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার চলেছে। এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

‎‎অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে আইয়ুব মেম্বারের সক্রিয় উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

‎‎এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির মহাসচিব (বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মদনপুর হয়ে সোনাকান্দা মাঠের একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে তার গাড়িবহরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও আইয়ুব মেম্বার জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার পরও তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

‎‎অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়েও তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পুত্র ও তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

‎‎এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত একজন জনপ্রতিনিধির প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত আইয়ুব মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন