শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৯:১২, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৭, ২৯ জুলাই ২০২৬
বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আইয়ুব মেম্বার বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইয়ুব মেম্বার বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।
অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. রশিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান, ড্রেজার প্রকল্পের নামে অনিয়ম, রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে বিক্রি এবং ইট-বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির মতো নানা অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইস্পাহানী, মালামত, চৌরাবাড়ী, ভাংতি বটতলা, গোকুলদাসেরবাগ ও মদনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আইয়ুব মেম্বারের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার চলেছে। এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে আইয়ুব মেম্বারের সক্রিয় উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির মহাসচিব (বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মদনপুর হয়ে সোনাকান্দা মাঠের একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে তার গাড়িবহরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও আইয়ুব মেম্বার জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার পরও তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়েও তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পুত্র ও তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত একজন জনপ্রতিনিধির প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত আইয়ুব মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।