শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:২২, ৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৫, ৮ আগস্ট ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জে এক দম্পতিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলা চালিয়ে একটি জমির দেয়াল ভাংচুর করে তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা পলাশ বাহিনীর বিরুদ্ধে।
পলাশ নাসিক ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ভুক্তভোগীর অভিযোগ জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় পলাশের নেতৃত্বে এ হামলা ও ভাংচুর করে তান্ডব চালায় তার সন্ত্রাসীরা।
শনিবার (৮ আগষ্ট) সকালে নাসিক ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজি দক্ষিণপাড়ায় কাদির ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন (৩৮) বাদি হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনাম করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলো, নাসিক ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান পলাশ, মো. ফারুক, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো: রনি ও মো: রকি সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়ায় কাদির ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এসএস-১৮৯৬ ও আরএস-২৫৫৩ নম্বর দাগে ৩ শতাংশ ৯০ পয়েন্ট জমির মালিক মুক্তার হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মুক্তা। তিনি ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক হয়ে সরকারি খাজনা পরিশোধসহ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে করে আসছে।
মুক্তার হোসেন আরো বলেন, নাসিক ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান পলাশ বাহিনী সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসনের প্রভাব বিস্তার করে জমি দখল সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে এলাকায়।
পরে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তার স্ত্রীর কাছ থেকে ওই জমি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি জমি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলো এবং জমিটি জোরপূর্বক দখলের হুমকি দিচ্েিছেলা।
ভুক্তভোগী আরো বলেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র,লাঠি, এসএস পাইপ, লোহার রড, শাবল, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা জমির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশের ইটের দেয়াল ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভাঙচুরের সময় ভুক্তভোগী মুক্তারের মামা আলী হোসেন (৩৭) স্থানীয় লোকজন নিয়ে অভিযুক্তদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা মারধর চেষ্টা করে এবং হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় মুক্তার হোসেন ও তার স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
এবিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়ে এসআই সালেকুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালেকুজ্জামান বলেন, এই হামলা ও জমির দেওয়াল ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।