নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে সরকারি জমি দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ২২:১২, ৯ আগস্ট ২০২৬

বন্দরে সরকারি জমি দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সরকারি খাল ও খাস জমি দখল করে নেওয়ার প্রতিবাদে এবং দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবমুক্ত রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। রবিবার (৯ আগস্ট) উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শুভকরদী এলাকায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রাসেল।

লিখিত বক্তব্যে রাসেল জানান, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শুভকরদী ও কলাগাছিয়া মৌজার সীমান্তবর্তী এলাকার একটি সরু খাল দীর্ঘদিন আগে স্থানীয়রা ভরাট করে চলাচলের রাস্তা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এরপর থেকে প্রায় ১৫ বছর যাবত শুভকরদী ও আশপাশের প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন মানুষ এই রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করছেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি একই এলাকার মোসাম্মৎ ইতি আক্তার ও মো. ইমতিয়াজ ওই খাস জায়গা ও চলাচলের রাস্তার ওপর অবৈধভাবে সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে রাস্তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে আমি বাধা দেই। এতে ইতি আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বন্দর থানায় একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নারী নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করে।

সংবাদ সম্মেলনে রাসেলের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রুবি বলেন, আমরা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করতে চাই না। সরকারি খাল ও খাস জমি রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তাটি উন্মুক্ত রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য। বন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে সাক্ষীরা নিশ্চিত করেছেন যে নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং রাস্তার নির্মাণকাজ বন্ধের আপত্তির কারণেই এই মিথ্যা অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ৩১ জুলাই ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকে বসেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষ সেই বৈঠকে অসংলগ্ন আচরণ করে এবং রাসেলকে মারধর ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় পৃথক একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি খাস জমি ও খাল রক্ষার দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বন্দর থানাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সফিক ও ছানোয়ার মিয়াও বক্তব্য রাখেন। 
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন