নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে তানিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন, স্বামী গ্রেপ্তার

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৯:২৬, ১১ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে তানিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন, স্বামী গ্রেপ্তার

‎সিদ্ধিরগঞ্জে গামের্ন্টস কর্মী তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ। পারিবারিক কলহের জেরে তানিয়াকে হত্যা করে স্বামী।  এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাসকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। ‎‎

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে দূরপাল্লার একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে তাকে  গ্রেপ্তার করা হয়।

‎‎পিবিআই জানায়, গত ২৬ জুলাই সকালে সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের কাছে বাসার চাবি রেখে জানান, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছে এবং পরে বাসায় যেতে বলেন। তবে কিছুক্ষণ পর নাছিমা আক্তার গার্মেন্টসে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিন তানিয়া কর্মস্থলে যাননি। 

এরপর বাসায় গিয়ে দরজার তালা খুলে ঘরের ভেতরে মশারির মধ্যে তানিয়ার নিথর দেহ দেখতে পান। তার নাক-মুখে রক্ত এবং শরীর শক্ত হয়ে ছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

‎‎পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের খালা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎‎পিবিআই আরো জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তানিয়া ও সোহাগ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থায়ী কোনো কাজ না থাকায় সংসারে অভাব-অনটন নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং সোহাগ স্ত্রীকে মারধর করতেন বলেও তদন্তে জানা গেছে।

‎‎মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর তিনি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

প্রথমে ঢাকার খিলগাঁও, মেরাদিয়া ও সবুজবাগ এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার পথে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎‎পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ জানান, সাংসারিক অভাব-অনটন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি তানিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরদিন সকালে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে নিহতের নাকের স্বর্ণের নাকফুল খুলে নিয়ে চাবি খালার কাছে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান।

‎‎পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, “গ্রেপ্তার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন