শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৭:১৭, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২০, ১৩ আগস্ট ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী সাবিকুন্নাহার মিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নাসিক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সানারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত স্বামীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে নির্মম এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার মো. জামশেদ মোল্লার ছেলে। আর অভিযুক্ত স্ত্রী সাবিকুন্নাহার মিম একই এলাকার মৃত মোস্তফা কামালের মেয়ে।
জান গেছে, জহিরুল ও মিম দম্পতি দক্ষিণ সানারপাড় এলাকার শাহ আলম মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। বুধবার রাতে জহিরুল বাসায় ফিরে স্ত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।
এতে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী সাবিকুন্নাহার মিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন।
ঘটনার সময় জহিরুলের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও অভিযুক্ত স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের মৌখিকভাবে বিচ্ছেদ হয়। তবে এরপরও ওই ব্যক্তি নিয়মিত তার কাছে যাতায়াত করতেন। প্রায় তিন মাস আগে তিনি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এরপরও বিষয়টি মেনে নিয়ে ওই নারী তাকে বাসায় আসতে দেন বলে জানান।
অভিযুক্ত স্ত্রীর অভিযোগ, তার স্বামী তাকে কোনো ভরণপোষণ দিতেন না। বরং বেতন পাওয়ার পর টাকার জন্য বাসায় আসতেন। পাশাপাশি প্রায়ই জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করতেন।
ঘটনার দিনও তিনি জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীর হাতে তার স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে যায় বলে দাবি করেন অভিযুক্ত স্ত্রী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।