শিরোনাম:
প্রকাশ: ২১:০১, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৫, ১৩ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে কোচিংয়ের বকেয়া ফি পরিশোধ করতে পারেননি বলে প্রধান শিক্ষক ২১ জন শিক্ষার্থীকে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রী। গত সোমবার সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার পিএম একাডেমি সংলগ্ন আল বালাগ স্কুলে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী এ ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। বিদ্যালয়ে কোচিং ফি হিসেবে শিক্ষার্থী প্রতি এক হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানায়।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলের ৮২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ফি দিতে না পারা এই ২১ জন শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে পাঠান প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন। তাদের কাছে কোচিংয়ের বকেয়া ফি দাবি করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য সময় চায়। কেউ কেউ পরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু এরপরও তাদেরকে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অস্বস্তি ও নার্ভাস অবস্থায় দেখা যায়। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বকেয়া টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এরপরও আমার মেয়েকে তার কক্ষে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাচ্ছে না, স্বাভাবিক আচরণও করছে না।
আরেকজন অভিভাবক বলেন, কোচিংয়ের টাকা না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের এভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা আগে কখনো শুনিনি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চাইছেন না।
এলাকাবাসী জানায়, কোনো শিক্ষার্থীর বকেয়া ফি থাকলে তা অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা উচিত। অর্থনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে অপমান বা মানসিক চাপে ফেলা তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানায়, এটি একটি বেসরকারী স্কুল। আমরা স্কুলের মালিকদের পরামর্শে তাদেরকে আমার রুমে আসতে বলি কোচিং ফি আদায় করার জন্য। কোচিং নিষিদ্ধের কথা স্বীকার করে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন সিদ্ধিরগঞ্জের কোন স্কুলে কোচিং হয় না?
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, এই অভিযোগের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। শিক্ষার্থীদের কোনো ধরণের মানসিক চাপ বা অপমানের মুখে ফেলা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কীভাবে ফি নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা বিধিমালা কী রয়েছে, সেটিও যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।