নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

থানায় অভিযোগ করতে এসে গ্রেপ্তার রাব্বি

পুলিশের উপর হামলার পর এবার সহযোগীকে কোপালো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সাহেব আলী

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:৩১, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০১:৫৮, ২০ আগস্ট ২০২৬

পুলিশের উপর হামলার পর এবার সহযোগীকে কোপালো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সাহেব আলী

পুলিশের উপর হামলার চালানোর রেশ না কাটতেই এবার নিজ বাহিনীর অন্যতম সহযোগী রাব্বিকে কুপিয়ে আহত করেছে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনী এলাকার ত্রাস দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সাহেব আলী।

রাব্বি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সোমবার (১৭ আগষ্ট) দুপুরে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে পুলিশের উপর হামলার ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার করে। এরআগে সকালে ডাকাত সাহেব আলীসহ তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে ও কুপিয়ে জখম করে। রাব্বির বুকে কোপ লেগে সে আহত হলে স্বজনার তাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

এদিকে ওই দুর্ধর্ষ ত্রাস সন্ত্রাসী ডাকাত সাহেব আলী এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে অপরাধ কর্মকান্ড চাললেও পুুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে একাধিক অভিযান চালিয়ে ব্যার্থ হওয়াতে এলাকায় বিরাজ করতে আতংক। 

নাম না প্রকাশের শর্তে অনেকেই জানান, আব্দুল আউয়ালের ছেলে আ’ লীগের দোসর হাবিবুর, পলাতক কাউন্সিলর বাদলের বিজনেস পাটনার আব্দুল হাই মেম্বারের ছেলে হাসান, এক সময়ে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও ভোল পাল্টে বিএনপির সাথে মিশে যাওয়া মাসুদ, রবিউল ও মহি উদ্দিনের শেল্টার ও সহযোগীতায় সমস্ত অপরাধ কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে সাহেব আলী। 

এদের ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় পুলিশ বারবার অভিযান চালিয়ে ব্যার্থ হচ্ছে। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সাহেব আলী হাসানের বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকে ও রবিউলের বাড়ির নীচ তলায় নিয়মিত মাদকের আড্ডায় বসে এবং মহিউদ্দিনের বাড়ি ও এরআশপাশে নিরাপদ স্থানে মাদক রেখে ছোট ছোট শিশুদের দিয়ে মাদক বিক্রি করায়।

তার সহাযোগীরা এলাকায় একটি বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে যারা আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় ডুকলেই একে অপরের কাছে ম্যাসেজ দেয়। প্রত্যেকে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। একাজে শিশুদের ব্যবহার করা হয়ে থাকেও বলে একাধিকজন জানান। যার ফলে অপরাধীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে ও অপরাধ করে নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যাচ্ছে। 

জানাগেছে, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সাহেব আলী ও তার বাহিনীর সদস্যরা এখন পর্যন্ত ৪ বার আইনশৃংখলাবাহীর উপর হামলা চালিয়েছে। প্রথম পুলিশের উপর হামলা চালায় বাংলাদেশ পেপার মিলের সামনে। দ্বিতীয় আটি গ্রামে পুলিশকে মারে পুলিশের গাড়িতে পেট্রোলবোমা ছুড়ে। তৃতীয় আটি ওয়াপদা কলোনি এলাকায় র‌্যাব সদস্যদের কুপিয়ে মারাত্মক জগম করে। 

সর্বশেষ গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোহাম্মদ স্বপন, কনস্টেবল মনির হোসেন ও কনস্টেবল আবু হানিফ চুরি হওয়া একটি মোবাইল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে আটি হাউজিং এলাকায় অভিযানে যান। সেখানে পৌঁছামাত্র স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত সর্দার সাহেব আলী এবং তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা ধারালো চাপাতি, দা ও লোহার রড নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সন্ত্রাসীদের হামলায় এএসআই স্বপন ও কনস্টেবল মনির মাথায় গুরুতর জখম হন এবং কনস্টেবল আবু হানিফও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় তারা পুলিশের কাছ থেকে একটি সরকারি ওয়াকিটকি, তিনটি ব্যক্তিগত মোবাইল ও নগদ ৫২ হাজার ৫৭০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আহত এএসআই স্বপন বাদী হয়ে সাহেব আলীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বউবাজার এলাকার এজাহারভুক্ত চার আসামি মোঃ নাইম হোসেন (২৫), মোঃ ইকবাল হোসেন (২১), মোঃ আব্দুল্লাহ (২৪) ও মোঃ আলেক শাহকে (২৮) গ্রেফতার করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি মালামাল ছিনতাইয়ের মামলায় রাব্বি এজাহারভুক্ত আসামি ছিল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে নিজের গ্রুপের প্রধান সাহেব আলীর বিরুদ্ধে থানায় নালিশ করতে এলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ঘটনার মূল হোতা সাহেব আলীসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন