নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ বিক্ষোভ, আগুন

বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে কুপিয়ে হত্যা : কাটা সিফাতসহ গ্রেপ্তার ১১

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র ও ১টি ওয়াকিটকি উদ্ধার

পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৪:১৬, ২১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪০, ২১ আগস্ট ২০২৬

বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে কুপিয়ে হত্যা : কাটা সিফাতসহ গ্রেপ্তার ১১

বামে নিহত বুলবুল, ডানে গ্রেপ্তারকৃতরা।

নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও  অটো রিকশা গ্যারেজ ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বুলবুল (৪০) এর উপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্ধর্ষ  সিফাত বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।  নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন ২২ নং ওয়ার্ডের বন্দর থানার ঠাকুরবাড়ী  এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। 

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করায় স্থানীয় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা জাহিদ আল আমিন বুলবুরের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল।

এর জেরে ২০২৪ সালের ২২ জুলাই রাতে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা বুলবুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একটি দল তার গতিরোধ করে। ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি ও সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় তারা।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ২১ আগস্ট বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়ের পরপরই জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদীর নির্দেশনায় বন্দর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে নামে।

রাতেই পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শেখ সিফাত (৩২) সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। 

পুলিশ জানায়, অভিযানের একপর্যায়ে আসামিপক্ষ পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় ১০০ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা অভিযানের পর আসামিরা আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়।

অভিযানে ১টি ছ্যান দা, ২টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১টি স্টিলের চাপাতি, ১টি লোহার পাইপ, ১টি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ছুরি, ১টি ওয়াকিটকি ও ১৪টি এসএস লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়।

প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ১৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা শুক্রবার (২১ আগস্ট)  সকাল ১০টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ঘন্টাব্যাপি বিক্ষোভ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

এছাড়াও হত্যার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা শাহী মসজিদ এলাকায় সড়কে বিক্ষোভ করেন।  এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এসময় স্বজনরা ও এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। প্রধান অভিযুক্ত সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। 

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী যে কোনো অপরাধ দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

এই ধরনের দুর্র্ধষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন