শিরোনাম:
পজেটিব নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮:১৬, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিক ৫ নং ওয়র্ডের আজিবপুর এলাকার বাসিন্দা সাবেক প্রধান শিক্ষক নারী উদ্যোক্তা শাহনাজের স্বাস্থ্য সেবা কাজে বাধা ও স্বামী সন্তানদেন নির্যাতন ও হুমকি ধামকির অবিযোগ পাওয়া গেছে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে।
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা চলমান রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী শাহনাজ। শাহনাজ ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত: মহিউদ্দিন আহমেদ এর কণ্যা। তিনি একজন নারী উদোক্তা ও সিদ্ধিরগঞ্জ মহিলা কল্যান সমিতির সভাপতি এবং রেবতী মোহন স্কুলের পরিচালনা কমিটি দুইবার সদস্য ছিলেন।
তিনি জানান, আমি সুনাধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং আমার স্বামী সরকারী কলেজে শিক্ষকতা করেন।
আমার পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে পেশায় একজন চিকিৎসক, বড় ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিযার এবং ছোট ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। আমার সহোদর ভাই শামীম ও মামুন। আমি আমার পিতা মাতা হতে প্রাপ্য সম্পত্তিতে ভোগ দখলে থাকিয়া নাম জারী করিয়া বসবাস করিতেছে। আমি ও আমার স্বামী পরিবারের উন্নতির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি।
আমাদের পরিত্যক্ত বাড়ীতে বাবার সহায়তায় স্কুল প্রতিষ্ঠা গড়ে তুলি এবং সে স্কুলে আমি বিশ বছর পরিচালনা করি। তবে দু;খ ও পরিতাপের বিষয়, আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মুমুর্ষ অবস্থায় ক্লিনিকে আইসিই্উতে চিকিৎসা থাকাকালীন সময়ে আমার ভাই শামীম পিতাকে দেখতে যাননি বরং বাবা বাড়ীতে ফিরলে ভবঘুরে ভাদাইম্মা সহোদর দুই ভাই তারা অসুস্থ বাবার কাছ থেকে ভূমি অফিস থেকে কমিশন এনে আমাকে বঞ্চিত করে কৌশলে প্রায় ১৭শতাংল স্কুল ও বাড়ীর জমি রেজিষ্ট্রি করে তাদের নামে লিখে নেন।
আমি সংসারের সুখের কথা চিন্তা করে ভাইদের অত্যাচারের ভয়ে ঘটনা জেনেও কোন প্রতিবাদ না করে নিশ্চুপ থাকি।কিন্তু আমাদের মা তার জীবন দশায় তার জমি আমাদের ভাই বোনকে তার বসত বাড়ী বন্টন নামা দলিলের মাধ্যমে লিখে দেন।
আমি মা- বাবার অনুরোধে অনেক কষ্ট স্বীকার করে ০৮ শতাংশ বাড়ীর নকশা পাশ করি এবং এজমালি জমিতে নির্মিতব্য আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট ওয়ারী মালিকানা ও পৃথক সুবিধা ভোগের অধিকার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত যৌথ চুক্তিনামা দলিল সম্পাদনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শাখা হাউস বিল্ডিং থেকে লোন পাশ করিয়ে আনি ০৩ ভাই বোনের নামে। যার যার অংশের টাকা সে পরিশোধ করবে এবং সেখানে ৫ তলা বিল্ডিং করি।
এ কাজে আমার স্বামী সহায়তা করেন। ৫ তলা বিল্ডিং এ বন্টন নামা দলিল মূলে যে যার ফ্ল্যাট বা অংশ বুজে নেবার শর্ত থাকলেও এবং পৈত্রিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মটর ব্যবহারের কথা থাকলেও বর্তমানে শামীম ও মামুন নানা ভাবে আমাদের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে যাচ্ছে।
নীচের গ্রাউন্ড ফ্লোরে তিন জনের সমান অংশ ভাগ করার কথা থাকলেও শামীম ও মামুন দুই ভাই ইচ্ছেমত ফ্লোর ব্যবহার করেন অথচ আমার অংশ আমাকে ব্যবহার করতে দেন না । এমনকি বাড়ীর গেটের দুপাশে খালি জায়গা পড়ে আছে সেখানে আমি এলাকাবাসীর জন্য আমার মেয়েকে দিয়ে ফ্রী স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থার জন্য একটি ডাক্তার চেম্বার করতে চাইলে এবং সেখানে কাজ করার জন্য পদক্ষেপ নিলে আমার এই মহতী উদ্যোগে তারা বাধা দিয়ে আমাকে নিরুৎসাহিত করছে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, হুমকি দেন এবং লাঞ্ছিত করেন।
তাই আমার এই মানবিক কাজ ফ্রী স্বাস্থ্য সেবা বাস্তবায়নে নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করছি।
শাহনাজ এর এই বিষয়টি নিয়ে তার ভাই মামুনুল কবির মামুন এর সাথে মুঠোফোনে কল দিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি নন বলে ফোন কেটে দেন।