শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩:১০, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিল্প প্রতিষ্ঠান জনকল্যাণে তৈরি করছে সড়ক, সেই সড়ক ব্যবহার করবে সবাই। কিন্তু সেখানে কাজ করতে গেলেই উঠছে চাঁদার দাবি।
দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় সিমেন্টবাহী গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সোনারগাঁয়ের জৈনপুর এলাকায়। শুধু তাই নয়, মামলা হওয়ার পর আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে ফের চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন মেঘনা গ্রুপের সংশ্লিষ্টরা।
তাদের অভিযোগ, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছে।
চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন ও পণ্যবাহী গাড়িকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি মেঘনা গ্রুপের একটি সিমেন্টবাহী গাড়িতে হামলা চালিয়ে চালকের কাছ থেকে টাকা ও গাড়িতে থাকা সিমেন্ট লুটের অভিযোগে সোনারগাঁ থানায় মামলা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে জৈনপুর এলাকা দিয়ে ২০০ বস্তা ফ্রেশ সিমেন্ট নিয়ে একটি পিকআপ মেঘনা ইকোনমিক জোনের নির্মাণাধীন একটি সাইটের দিকে যাচ্ছিল। পথে গাড়িটি আটকে চাঁদা দাবি করা হয়।
টাকা না দেওয়ায় জৈনপুরের মফিজুল ইসলামের ছেলে মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে মো. শুভ (২৮), মো. রাব্বী (২৮), আল-আমিন (৩০), মো. তানভীর (২৯), মো. সজিব (৩৫), মো. সবুজ (৩১), হোসেন মোল্লা (৩০), মাহফুজ (২১)সহ ১০ থেকে ১২ জন দা, চাপাতি, রড, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়িতে হামলা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা গাড়িচালকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং গাড়িতে থাকা সিমেন্টও লুট করে বলে অভিযোগ করা হয়। চালকের চিৎকার শুনে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ (৪৪) ও মো. সোপান (২০) এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। ঘটনার পর ওই রাতেই মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার লিমিটেডের এজিএম (প্রশাসন) আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন।
মেঘনা গ্রুপের সূত্র জানায়, মামলা হওয়ার পর আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এরপর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকজনকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি মেঘনা গ্রুপের কোনো গাড়ি জৈনপুর এলাকা দিয়ে চলাচল করতে হলে গাড়িপ্রতি ১০ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মেঘনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ জানায়, জৈনপুর এলাকার সড়কটি বর্তমানে ১২ ফুট প্রশস্ত ও ৩ ফিট ড্রেন । এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে নিজেদের খরচে সড়কটি ২৫ ফুট প্রশস্ত করে আরসিসি ঢালাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্র সেই জনকল্যাণমূলক কাজেও বাধা দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জৈনপুর এলাকায় মেঘনা গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো নির্মিত হয়নি। এলাকাটির সড়ক দিয়ে মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চলাচল করলেও সেগুলো মূলত জনগণেরই মালামাল পরিবহন করে। এ কারণে স্থানীয় মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজেদের অর্থায়নে সড়কটি নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
জৈনপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সুমনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা না পেলে কোম্পানির লোকজনকে হুমকি দেওয়া হয়।
তারা আরও দাবি করেন, ২০০৭ সালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকা থেকে ফেনসিডিল নিয়ে সোনারগাঁ আসার পথে সুমনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। ওই ঘটনায় ওই বছরের ৩০ জুলাই কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয় এবং ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তবে সুমন দাবি করেছেন, ওইসব মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।
মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদের অভিযোগ, সুমনের নেতৃত্বে চাঁদার দাবিতে কোম্পানির সিমেন্টবাহী গাড়িতে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। কয়েক দফা টাকা দেওয়ার পরও নতুন করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। মামলা করায় হুমকি আরও বেড়েছে এবং এতে মেঘনা গ্রুপের নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অন্য ঠিকাদারি প্রতিনিধি সোপান বলেন, শুভ ও সুমনের লোকজনকে কয়েক দফা টাকা দেওয়া হলেও এখন আবার মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার না হলে নির্মাণকাজ চালানো এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অভিযোগের বিষয়ে মাহবুবুল ইসলাম সুমন নিজেকে দৈনিক সংবাদের সোনারগাঁ প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয়। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও দালাল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ভুল বুঝিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো টাকা চাইনি। প্রতিষ্ঠান রাস্তা করতে চেয়েছে। আমি স্থানীয় এলাকাবাসী হিসেবে তাদের সঙ্গে মানববন্ধন করেছি। আমরা শুধু বলেছি, রাস্তা এক জায়গা দিয়ে না করে অন্য জায়গা দিয়ে করার জন্য।”
অতীতে তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে মাদকের মামলার কথা বলা হয়েছে, সেসব মামলা থেকে আমি খালাস পেয়েছি।”
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, “তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছে। জামিনে বের হয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে।”