শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:৪৭, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৩, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানবতা বিরোধী মামলায় কারাগারে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর সন্ত্রাসী মতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফ্যাসিস্ট আ.লীগের দোসর ভোলপল্টানো আদমজীর সন্ত্রাসী রুহুলের বিরুদ্ধে বিএনপির সাথে মিশে আগামী ডিসেম্বর পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে আদমজী ইপিজেড অশান্ত, নাশকতার ছকসহ আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, রুহুল উপরে উপরে নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিলেও গোপনে বৈষম্য বিরোধী মামলায় দেশে লুকিয়ে থাকা আশরাফ ও বিদেশে পালিয়ে থাকা কিশোর গ্যাং লিডার পানি আক্তারের অর্থায়নে সিদ্ধিরগঞ্জে ঝটিকা মিছিলের অর্থ সরবরাহ করছেন এবং বর্তমান বিএনপি সরকারকে বদনাম করতে আদমজী ইপিজেড অশান্ত করতে যত ধরনের অপরাধ আ’লীগের লোক দিয়ে করিয়ে নারায়ণগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পায়তারা করছেন। যার তত্ত্বাবধায়নে রয়েছেন শামীম ওসমান পুত্র অয়ন ওসমান।
এদিকে বিগত ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া বহুরূপী রুহুল আমিনের রহস্যজনক অবস্থান নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নবাগত পুলিশ সুপার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি’র নিকট বিএনপি নেতাদের দাবী ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসর ভোলপাল্টানো সন্ত্রাসী রুহুলের বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। অন্যথায় সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সাথে জানান।
আওয়ামী শাসনামলে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা
অনুসন্ধানে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলার পলাতক আসামি ও যুবলীগ নেতা আশরাফের সাথে যৌথভাবে মেঘনা নদীর এসও ঘাটের জ্বালানি তেল খাত নিয়ন্ত্রণ করতেন এই রুহুল।
এছাড়া ৬ নং ওয়ার্ডের বিহারী ক্যাম্প এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবিসায়ী নাহিদ ও রমজানকে সাথে নিয়ে মাদকের সাম্রাজ্য বিস্তার এবং কাউন্সিলর মতির কিশোর গ্যাং প্রধান (বর্তমানে পলাতক) পানি আক্তারের সাথে যোগসাজশে ইপিজেডের চোরাই লোহা ও 'গরদা' ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এমনকি নিজের ব্যবসায়িক অফিসগুলোও তিনি উদ্বোধন করিয়েছিলেন তৎকালীন বিতর্কিত কাউন্সিলর মতিকে দিয়ে।
আদমজী ইপিজেডে অস্থিতিশীল সৃস্টির পায়তারা
আদমজী ইপিজেডে পুনরায় নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ধ্বংস করতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা পানি আক্তারের কিশোর গ্যাংকে ইপিজেডের ভেতরে অনুপ্রবেশ করাচ্ছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বায়ারদের কাছে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরে এবং যে কোনো মুহূর্তে সহিংসতা তৈরি করে শিল্প খাত অচল করাই তাদের মূল লক্ষ্য তথা সারাদেশে আওয়ামলীগের চক্রান্তের একটি অংশ।
সিদ্ধিরগঞ্জের সচেতন নাগরিক মহল মনে করছেন, সারাদেশে সরকারকে বিপাকে ফেলে আওয়ামী লীগের যে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জে রুহুল আমিনই তার প্রধান বাস্তবায়নকারী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের সহিংসতার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা। আবারও যদি সন্ত্রাসী বলয় সক্রিয় হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আদমজী এলাকার সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং স্থানীয় এমপি মান্নানের সুস্পষ্ট ভূমিকা কামনা করছেন।
রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তন ও আওয়ামী পুনর্বাসন
গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে কিছুদিন নিষ্ক্রীয় থাকেন রুহুল। কিন্তু কিছুদিন পরেই তিনি নিজের খোলস বদলে নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। গত ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী রুহুল আমিনের জড়িত একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বিএনপির নাম ব্যবহার করে তিনি মূলত সিদ্ধিরগঞ্জে বিতর্কিত আওয়ামী নেতাদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু করেন। স্বৈরাচার পতনের পর পানি আক্তার গ্রুপের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও, সম্প্রতি যুবলীগ নেতা হৃদয়, রবিন, শামীম, রমজান ও 'গ্যাস' মিজানের মতো ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে এসে রুহুলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। সেদিনের পর থেকেই রুহুলের মুল উদ্দেশ্য জনগনের সামনে পরিস্কার হতে থাকে।
এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, ও একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এর কিছুদিন পরেই যুবলীগ নেতা হৃদয়গ্রেপ্তার হন সিদ্ধিরগঞ্জ পুরাতন থানা সংলগ্ন রুহুলের নিজস্ব অফিস থেকে। রমজানকে খুজছে পুলিশ এই শিরোনামে অনেক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।
অন্যদিকে তার আরেক সহযোগী রমজানকে সম্প্রতি ঢাকায় আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে ভিডিও ফুটেজের স্ক্রীনশর্টে দেখা যায় যেটার ভিডিও পোষ্ট করেছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সিদ্দিক নাজমুল।
সেই মিছিলে রবিন, শামীম, হৃদয়, গ্যাস মিজান ও ছিল কিন্ত কয়েক ঝটিকা মিছিলের মাত্র ১৪ সেকেন্ডের ফুটেজে তাদের মার্ক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আদমজীর মাটিতে শান্তি চাইলে অতিদ্রুত রুহুলসহ গ্রেপ্তার করুন। তা না হলে বিএনপির প্রতি মানুষের ঘৃনা জন্মাবে।
এ বিষয়ে কথা বলদে রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।
এ বিষয় জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জানান, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোন অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
র্যাব-১১’র অধিনায়ক লে: কনেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রত্যেক এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের তালিকা করা হচ্ছে। খুব শিগ্রই ওই সকল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে।