শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩:৩৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফতুল্লার বক্তাবলীতে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জেলা এনসিপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় বক্তাবলী ইউনিয়নের বক্তাবলী বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলাম জেলা এনসিপির দায়িত্ব পাশাপাশি বক্তাবলী ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে ইট ভাটার জন্য প্রভাবশালীদের অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন।
জেলা এনসিপির আহবায়ক জুবায়ের সরদার বলেন, ‘আজকে বক্তাবলীতে আমাদের একটি ঘরোয়া বৈঠক ছিলো। বিকেলে বক্তাবলী ঘাটে নামার পর এলাকার লোকজনের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়।
তারা আমাদের বলে আমরা কেন এই এলাকার অবৈধ মাটি কাঁটা নিয়ে প্রতিবাদ করছি না? তাদের কথা শোনার পরপরেই নেতাকর্মীরা মিলে পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হই এবং মাটি কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাই।
সন্ধ্যায় তাওহীদুল ইসলাম একা পেয়ে ১০/১৫ জন মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। তৌহিদ জানিয়েছে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাকে দ্রুত শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।’
ভুক্তভোগী তৌহিদ বলেন, হালিম আজাদের নেতৃত্বে তার ভাই ইয়াসিন আরাফাত, সহযোগী নয়ন, ইমন, জুয়েল, আবুল খায়ের সহ কয়েকজন আমাকে চাপাতি, এসএস পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আমার সাথে আমার কয়েকজন ছোটভাই ছিলো, তারা বাঁধা দিতে আসলে তাদেরও মারধর করেছে।
এই বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ফকির বলেন, ‘আমি শুনতে পেরেছি এনসিপির এক নেতার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেলাম আমাদের হালিম আজাদ নাকি এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি। আমি খোঁজ নিচ্ছি।
অভিযুক্ত হালিম আজাদ বলেন, এটা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি আজকে বক্তাবলী থেকে অনেকটা দূরে আছি। আমি শুনেছি বক্তাবলীতে এনসিপির তৌহিদের সাথে কি ঝামেলা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় আমাকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে।
এই বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, আমরা হামলার খবর পেয়েছি। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে সেই বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।