শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:২৫, ২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৬, ২ অক্টোবর ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশ সুপারের নাম ভাঙিয়ে জমি দখলের চেষ্টা, বাউন্ডারি ভাঙচুর করে দশ লাখ টাকা ক্ষতি সাধন ও ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মিজমিজি বাতেনপাড়া এলাকার আবু কালামের ছেলে ভুক্তভোগী মুক্তার (৩৭) বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দেওয়া অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জের আব্দুল আলী পুল এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৫৫), হিরাঝিল এলাকার মো. সুলতান খাঁনের ছেলে মো. রনী খান (৪৫), একই এলাকার মৌলভী মো. সাহাব উদ্দিনের ছেলে বোরহান (৫৩), মিজমিজি দক্ষিনপাড়া এলাকার আবুল কাশেম সরদারের ছেলে ডালিম (৫০), একই এলাকার আমিজ উদ্দিনের ছেলে ইকবাল (৫০) ও সালামের ছেলে ফয়সাল (৩৯) এবং রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ধোলাইপার এলাকার রকি (৪০)।
ভুক্তভোগী মুক্তার বলেন নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ভেন্ডার ইকবাল তাকে বলেছেন, এই জমিতে নাকি বর্তমান পুলিশ সুপারের বোনের শেয়ার রয়েছে। পুলিশ সুপার তাকে ডেকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তার সাথে এ বিষয়ে বসে সমাধান করতে বলেন। প্রয়োজনে এসপির সাথে কথা বলতে বলেন।
তিনি বলেন, মূলত এসপির কথা বলে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এসপির নাম বেইচ্চা আমার জমি দখল করতে গেচে। পরে আমি উপায়ন্তর না পেয়ে “৯৯৯” এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন।
অভিযোগে মুক্তার উল্লেখ করেন, সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজায় আরএস ২৫৫৩ এবং সিএস ও এসএ ১৮৯৫ দাগে মোট ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ জমি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে সাইড বাউন্ডারি নির্মাণ করে এবং সরকারি খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছেন।
মুক্তারের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় তার অনুপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে প্রবেশ করে বাউন্ডারি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাউন্ডারি ভাঙার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা মুক্তারের কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে জমি দখল করে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুক্তার আরও অভিযোগ করেন, ২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার জমিতে প্রবেশ করে নতুন করে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চাঁদা না দিলে, জমি দখলে বাধা দিলে কিংবা আইনি ব্যবস্থা নিলে তাকে ক্ষতি করার পাশাপাশি প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তারের দাবি, তার প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের জমি দখলের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে আশঙ্কা করে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে বিবাদীপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই অলিউল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় এসে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসার আহ্বান জানান।
নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ভেন্ডার ইকবাল বলেন, এই জমিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার এসপি হাবিবুর রহমান স্যারের বোনের জায়গা রয়েছে। এসপি স্যার আমাকে ফোন করে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছেন। কেবল সেই কথা মতোই আমি উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি, এর বাইরে আমার অন্য কোনো ভূমিকা নেই। তবে জমি দখলের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”