শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৬:৪৩, ৫ অক্টোবর ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের রিমি গার্মেন্টসের সামনের ফুটপাতে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
হকারদের দাবি, কথিত কয়েকজন বিএনপি নেতা ও সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তাদের উচ্ছেদ করে পরে দোকানপ্রতি পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হকারদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুপারভাইজার নজরুল, ৫ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের নেতা আলী, বিএনপি নেতা রুবেল, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম প্রিন্স, আসিফসহ আরও কয়েকজন এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।
সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন হকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে রিমি গার্মেন্টসের মূল ফটকের উত্তর পাশে রেলওয়ের সরকারি পরিত্যক্ত জায়গায় দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
সম্প্রতি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি করপোরেশনের সুপারভাইজার নজরুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি মাইকিং করে জানান যে, সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে হকারদের সরে যেতে হবে।
এই খবরে হকারদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়।
তাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের পর শ্রমিক দলের নেতা আলী হকারদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে যেতে বলেন।
সেখানে বলা হয়, গার্মেন্টস শ্রমিকদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে, তাই বালু ভরাট করে বসার জায়গা করে দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে প্রত্যেক হকারকে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা দিতে হবে।
টাকা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টাকার বিষয়টি কেউ জানাজানি করলে তাদের এলাকাছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন হকাররা।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সুপারভাইজার নজরুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফুটপাত থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লাগুলো ওই এলাকায় ডাম্পিং করা হতো। দুর্গন্ধ না ছড়ানোর জন্য আমি সেখানে বালু ফেলে ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
সেই সুযোগে কারা ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
৫ নম্বর ওয়ার্ড সচিব সালাউদ্দিন জানান, রিমি গার্মেন্টসের কিছু শ্রমিক যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সিটি করপোরেশন বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
সেখানে উল্লেখ ছিল যে, গার্মেন্টস ছুটির পর শ্রমিকদের চলাচলে সমস্যা হয় এবং ওই এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
তাই রাস্তা বড় করে ফুটপাতের হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে বসার ব্যবস্থা করার জন্য বলা হয়েছিল। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকার জানান, আসিফ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। পূর্বে ওই এলাকায় রাতে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।
বর্তমানে তিনি কিছু স্থানীয় বিএনপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে হকারদের উচ্ছেদ করেছেন এবং তার নেতৃত্বেই প্রতিটি হকার থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হকাররা অবিলম্বে এই চাঁদাবাজ চক্রকে আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।