নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

‘জীবনে আর বিএনপি করব না’ বলে মিষ্টি বিতরণ করা সেই আনোয়ার এখন বিএনপি নেতা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:৫৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬

‘জীবনে আর বিএনপি করব না’ বলে মিষ্টি বিতরণ করা সেই আনোয়ার এখন বিএনপি নেতা

রাজনীতিতে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলানো নতুন কিছু নয়, তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘সুদি আনোয়ার’-এর কাণ্ড পুরো এলাকায় জন্ম দিয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের।

একসময় “জীবনে আর বিএনপি করব না” ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা এই ব্যক্তিই এখন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আজ থেকে বিএনপির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, জীবনে আর বিএনপি করব না।”

ঘোষণাটি উদযাপনে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণও করেন। তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই বদলে যায় দৃশ্যপট। সুযোগ বুঝে তিনি আবারও বিএনপিতে ভিড়ে যান। বর্তমানে কোনো অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ‘সিনিয়র সহ-সভাপতি’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন তিনি।

এদিকে আনোয়ারের হঠাৎ বিএনপি প্রীতি ও নিজেকে নেতা দাবি করার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আনোয়ার কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বিগত ১৫-১৭ বছর দলের কঠিন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথে তার কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।

থানা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “তিনি কোন কমিটির সহ-সভাপতি, তা আমাদের জানা নেই। সুদি আনোয়ার নামের কেউ বিএনপির পদে নেই। কেউ যদি দলের নাম ভাঙিয়ে বা পরিচয় বিক্রি করে কোনো অপকর্ম করার চেষ্টা করে, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তারা জানান, আনোয়ার মূলত পেশায় একজন সুদের ব্যবসায়ী। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নিজের চড়া সুদের ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালাতে তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলরের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালেও তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে।

৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় চক্রবৃদ্ধি সুদের কারবার জোরদার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিচার-শালিসের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির মতো অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ক্ষমতার পালাবদলে রাতারাতি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন থেকে বিএনপির ‘বড় নেতা’ বনে যাওয়া এই ‘সুদি আনোয়ার’-এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন