শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:৪২, ১১ অক্টোবর ২০২৬
রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আড়াইহাজারে দেদারচ্ছে বিক্রি হচ্ছে চায়না থেকে আমদানীকৃত বন্ড সুতা। উপজেলার সুতা ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন কায়দায় সুতা আমদানি করছেন।
বিভিন্ন এলাকায় কাস্টমসের লোকজনের অভিযানের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব সুতা (চীন) চায়না কোম্পানীর প্যাকেজিং ফেলে পলি ব্যাগে করে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ কায়দায় বিক্রি হচ্ছে। এতে দেশীয় উৎপাদিত সুতার ব্যবসায় এক প্রকার ধস নেমেছে। থমকে যাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন সুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
অপরদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি নিয়তই আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এতে একের পর এক ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার চিন্তা করছেন অনেকে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বিপুল পরিমাণে শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা অবনতি হতে পারে বলেও অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় শুল্কফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় ও চায়না বন্ডের সুতা অবাদে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিপুল পরিমাণ সুতা মজুদ করে কৃত্রিম সংকটও তৈরি করছেন।
বেশ কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ীর অভিযোগ, গাজী মান্নান, আমান, জাকির মোল্লা, কাদির হাজী, হারিসুল মেম্বার, আবু তাহের, ফাহিম ও সুলমানসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাজারে সুতার সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভারত ও চায়না থেকে শুল্ক ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে এসব সুতা দেশে আনা হচ্ছে। পরে গোপালদী বাজার, মোল্লার চর, লক্ষীভরদী ও দাইরাদীসহ বিভিন্ন এলাকায় গোডাউন ও সাইজিং মিলে এসব সুতা মজুদ করা হচ্ছে।
চাহিদার সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে সুতা বিক্রি করা হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এতে একদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত দামে সুতা কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে শুল্ক ও রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সুতার কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভিন্ন গোডাউন ও মিলে অবৈধভাবে সুতা মজুদ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রাকশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আড়াইহাজারের স্পিনিং মিলগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এমতাবস্থায় ইন্ডিয়া এবং চায়না হতে অবৈধপথে সুতা এনে বাজারে বিক্রয় করে আসতেছে এতে যেমন আড়াইহাজারের স্পিনিং গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার ও কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে আমদানি করা সুতা জব্দ এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীরা।