নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ফতুল্লায় এনসিপি কর্মীকে মারধর করলো যুবদল নেতা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২৩:৩৪, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩৫, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফতুল্লায় এনসিপি কর্মীকে মারধর করলো যুবদল নেতা

দোকান থেকে কোমল পানীয় “মোজো”ক্রয় করে টাকা বাকী রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এনিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

রোববার দুপুরে ফতুল্লার মধ্য রসুলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ১১টায় কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম রাজের চাচা হানিফ মিয়ার দোকান থেকে কমল পানি মজু নিয়ে টাকা পরে দেয়ার কথা বলে চলে যাচ্ছিলেন এনসিপি কর্মী সোহাগ। এসময় দোকানদার হানিফ তাকে বাকি দিবেন না বলে জানান। তখন সোহাগ দোকানদারকে গালমন্দ করে। 

এনিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন সোহাগকে দুরে সরিয়ে দেয়। তখন দোকানদারী কেমনে করবে হানিফ মিয়াকে হুমকি দিয়ে সোহাগ চলে যায়। বিষয়টি রোববার সকালে হানিফ তার ভাতিজা মাসুম রাজকে জানালে সে সোহাগকে ডেকে নিয়ে  মারধর করেন। 

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব শক্তি সদস্য সচিব নাসিম আহমেদ জানান, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম রাজ জুলাই আন্দোলনের পর কুতুবপুর এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে সাধারন মানুষকে অতিষ্ট করে তুলেছেন।

একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের এনসিপির কর্মী সোহাককে রাস্তা থেকে দলবল নিয়ে তার ক্লাবে নেয়। এরপর তার ক্লাবে সোহাগকে এলোপাথারী মারধর করতে থাকে।

খবর পেয়ে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাসুমের ক্লাব থেকে সোহাগকে উদ্ধার করে থানায় খবর দিয়েছি। আমাদের দাবী মাসুমকে গ্রেফতার করা হলে এলাকাবাসী শান্তিতে থাকতে পারবে।

মাসুম রাজ জানান, সোহাগ কোন দলের কর্মী না। সে এলাকায় বখাটে এবং মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এলাকার প্রতিটি মুদি দোকানদারকে সোহাগ মারাত্মক হয়রানী করেন। সিগারেট মজুসহ বিভিন্ন সদাই নিয়ে টাকা পড়ে দিবে বলে চলে যায়। এরপর টাকা চাইলেই নানা ভাবে হুমকি দেয়।

গত শনিবার রাতেও হানিফ মিয়ার দোকান থেকে মজু নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। তখন টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধ দোকানদার হানিফকে মারধর করতে ক্ষেপে যায়। রোববার সকালে সোহাগ তার মা পারভিনকে ডেকে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আনি। এরপর উভয় পক্ষের কথা শুনি।

তখন সোহাগকে তার মা পারভিন বেগম চর থাপ্পর দিয়ে হানিফ মিয়ার সাথে মিলেয়ে দেন। পরবর্তীতে এনসিপি নেতা পরিচয় দিয়ে নাসিম আহমেদ নামে এক ছেলে এসে গায়ে পড়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের শান্ত করেন।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক(এসআই) নন্দন চন্দ্র সরকার জানান, সোহাগ নামের ছেলেটি অপরাধ করেছে। তার অপরাধের বিচার তার মা করে মিমাংসা করেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন