নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে প্রবাসীকে অপহরণ, মুক্তিপন আদায় : মামলা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:৪০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বন্দরে দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে প্রবাসীকে অপহরণ, মুক্তিপন আদায় : মামলা

সদ্য  প্রবাস ফেরত বন্ধুকে দেওয়াত দিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে অপহরণের পর  মুক্তিপন  বাবদ  ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ও একটি  স্মার্ট মোবাইল সেট হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী প্রবাস ফেরত সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) রাতে ৭ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় এ মামলা দায়ের করেন তিনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ৭টায় বন্দর উপজেলার পশ্চিম কেওঢালা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। তবে এ ঘটনায় অপহরণকারীদের গ  গ্রেপ্তারের সংবাদ জানাতে পারেনি পুলিশ।

মামলার তথ্য সূত্রে জানা গেছে, সুদূর সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার পিটাকরা এলাকার আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে জর্ডানে প্রবাসে জীবন যাপন করে আসছিল। প্রবাসে থাকা কালিন সময়ে সিলেটের
সফিকুল ইসলামের সাথে বন্দর উপজেলার পশ্চিম কেওঢালা এলাকার মৃত ফয়েজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে রনী পরিচয় হয়।

এর  ধারাবাহিকতায় সফিকুল ইসলাম গত ৯ ফেব্রুয়ারী জর্ডান থেকে ছুটিতে দেশে আসে। বিবাদী রনির সাথে শফিকুল ইসলামের প্রায় সময় মোবাইল ফোনে কথা হত। সফিকুল ইসলাম  দেশে আসার খবর শুনে বিবাদী রনি সদ্য প্রবাস ফেরত সফিকুল ইসলামকে তার বাসায় দাওয়াতের আসার জন্য বলে।

গত বৃহস্পতিবার সদ্য প্রবাস ফেরত শফিকুল ইসলামের স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বিবাদী রনী প্রবাস ফেরত সফিকুল ইসলামের  স্ত্রীর অসুস্থতার কথা শুনে তার স্ত্রীকে দেখার জন্য উল্লেখিত হাসপাতালে যায়।

পরে প্রবাস ফেরত শফিকুল ইসলামকে বিবাদী রনী তার বাসায় যাওয়ার জন্য বললে সফিকুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বন্দর উপজেলার পশ্চিম কেওঢালাস্থ বিবাদী রনির বাড়িতে বেড়াতে আসে।  

শফিকুল ইসলাম রাত অনুমান সাড়ে ৭টায় বিবাদী রনির বাড়িতে অবস্থানকালে একই এলাকার মৃত ফয়েজ উদ্দিন মিয়ার আরো ২ ছেলে বাবুল ও মনির এবং একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে ওমর রনী বাসায় এসে সকল বিবাদীগণ শফিকুল ইসলামকে এলোপাতারি  ভাবে মারপিট করে  বিবাদী রনির বাসায় আটক রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

টাকা না দিলে উল্লেখিত বিবাদীগণ সফিকুল ইসলামকে খুন জখমের হুমকি প্রদান  করে। উল্লেখিত বিবাদীগণ সফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোন থেকে ০১৭৯৭২৯৩৮৭৭ থেকে সফিকুল ইসলামের মায়ের ব্যবহৃত ফোন ০১৭৯৭৪৭১৮৩১ নাম্বারে ফোন করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

ওই সময় শফিকুলের মা তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য  বিবাদীদের কথা মতে বিবাদীদের ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্ট নং   ০১৯৬৮৯২৮১০১ নাম্বারে  ৫০ হাজার টাকা  এবং বিকাশ একাউন্ট নং ০১৮ ২১৮০৪২০০ নাম্বারে আরো ৫০ হাজার টাকা  মুক্তিপন  বাবদ টাকা পাঠায়।

তারপরও বিবাদীরা  সফিকুল ইসলামকে বেদম ভাবে পিটিয়ে তার সাথে  থাকা আরো নগদ ৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট ফোন যার আনুমানিক মূল্য ৩৪ হাজার টাকা  ছিনিয়ে নেয়। অপহরণকারীরা শফিকুল ইসলামকে   নানা নানাভাবে ভয়ভীতি  ও  হুমকি দামকি দিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার সময় উল্লেখিত অপহরণকারীরা শফিকুল ইসলামকে ছেড়ে দেয়।  

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন