নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে এলপি গ্যাসে চরম ভোগান্তি, খুচরা বিক্রেতাদের কথাই শেষ কধা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮:১৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৩:০৪, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে এলপি গ্যাসে চরম ভোগান্তি, খুচরা বিক্রেতাদের কথাই শেষ কধা

১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামে থাকার কথা ১২শ থেকে ১৩শ টাকার মধ্যে তা নারায়ণগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় বিক্রি হচ্ছে ১৬শ থেকে ১৮শ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম ছাড়িয়েছে ১৯শ টাকাও।

রান্নাঘরের এই নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে এমন অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বাজারে নেই কোনো মূল্যতালিকা, নেই কার্যকর তদারকি।  ফলে খুচরা বিক্রেতাদের কথাই শেষ কথা।

ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও কিংবা আড়াইহাজার জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই একই চিত্র। গ্যাসের দাম জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলছেন, আমরাও বেশি দামে কিনছি” কিন্তু সেই ‘বেশি দাম’ ঠিক কে বাড়াচ্ছে তার কোনো পরিষ্কার জবাব নেই। 

আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী এলাকার গৃহিণী শিরিন আক্তার বলেন, গত মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। এবার একই সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ১ হাজার ৭৫০ টাকা চাচ্ছে। দরদাম করলেও কমায় না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের তো উপায় নেই।

একই এলাকার রিকশাচালক আবদুল মালেক বলেন, আগে মাসে একবার সিলিন্ডার নিলেই চলত। এখন দুই মাসেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। গ্যাসের দাম বাড়লে সব কিছুর চাপ পড়ে।   এই পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।

 ঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী ও রামচন্দ্রদী বাজারে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির দায়ে তিনটি মামলায় তিনজনকে মোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তাফিজুর রহমান ইমন। রামচন্দ্রদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির দায়ে ‘মায়ের দোয়া ট্রেডার্স’-এর মালিক রোমান (৩৫) এবং ‘তোফাজ্জল হার্ডওয়ার এন্ড ইলেকট্রিক হাউজ’-এর মালিক তোফাজ্জল (৪০)-এর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়। আদালত প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া গোপালদী বাজারে একই অভিযোগে ‘আলম স্টোর’-এর মালিক আলম (৩০)-কে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে হৃদয় (২০) নামের এক যুবককে আরও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ইমন বলেন, এলপিজি এখন সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি। অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও ভোক্তা হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আড়াইহাজার উপজেলায় অধিকাংশ মানুষ রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহার করেন। ফলে দাম বাড়ালে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ ভোক্তারা। এ কারণে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসনের অভিযান চললেও বাস্তবে বাজারে তেমন প্রভাব পড়ছে না—এমনটাই বলছেন ভোক্তারা। এক বিক্রেতার বিরুদ্ধে আজ জরিমানা হলেও পাশের দোকানে একই দামে বিক্রি চলছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার আগের দামেই ফিরে যাচ্ছে বাজার।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা স্থানীয় একটি সংগঠনের প্রতিনিধি বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করে সাময়িক ফল মিললেও মূল সিন্ডিকেট ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমদানিকারক, পরিবেশক ও বড় ডিলারদের নজরদারিতে না আনলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।”

এদিকে, দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। এ বিষয়ে দেশজুড়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বাজার তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল জেলায় এলপিজি এখন বিলাস নয়, প্রয়োজন। অথচ এই প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে যদি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো না যায়, তাহলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা ভোক্তাদের।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন