শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮:৪৫, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:০১, ১৭ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. অনিক (২৭), মো. আকাশ খান (৩৬) ও বাবু ওরফে চান্দি বাবু (৪৫)। নিহত মো. ওয়াজেদ সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে। তারা একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে। নিহত মো. ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ও দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলম পারভেজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই সাথে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। আমাদের আবেদন থাকবে এই রায় যেন বহাল রাখা হয়।
মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। অনিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আকাশের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান। চান্দি বাবুর বিরুদ্ধেও ছিনতাইয়ের সময় হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
মো. ওয়াজেদ সীমান্তর বাবা মো. আলম পারভেজ বলেন, আমরা আদালতের এই রায়ে খুশি। সেই সাথে সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। আমার আবেদন, উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল রাখা হয়।