শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০১:০০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০১:০৪, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় সরাসরি দলীয় প্রতীক ব্যালটে থাকছে না।
তবে তিন প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তাদের পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে। প্রত্যক্ষ দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে দলগুলোর সমর্থন ও রাজনৈতিক কৌশলই মূল জয়ের চাবিকাঠি হয়ে উঠবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচনে বিএনপি তাদের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে। সাখাওয়াত ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মূলত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং ভোটের প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সাখাওয়াত হোসেন খানও জানিয়েছেন যে, নির্জীব হয়ে পড়া সিটি করপোরেশনকে নতুন করে সচল করে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে তিনি কাজ করছেন এবং জনগণের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ সিটিতে মহানগরীর আমির মাওলানা আবদুল জব্বারকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিচ্ছে। পূর্বে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তীতে এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
যার ফলশ্রুতিতে এবার নারায়ণগঞ্জ সিটিতে এনসিপি কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না এবং জোটগতভাবে জামায়াতের প্রার্থীর পথই উন্মুক্ত থাকছে। মাওলানা আবদুল জব্বার বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা ও পেশাজীবী মানুষের মাঝে সেবা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে জোরালো গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাঁদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে দলের মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহকে। এর আগে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ের মুখ না দেখলেও রাজনীতিতে তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলের ভেতর উচ্চ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ক্লিনম্যান রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন এবারও তাঁর ওপরই আস্থা রাখছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্দলীয় এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, ক্লিন ইমেজ ও ভোটারদের আস্থা অর্জনের ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।
একই সঙ্গে বিএনপির সাখাওয়াতের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, জামায়াতের আবদুল জব্বারের সাংগঠনিক শক্তি নাকি ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি কোন বিষয়টি নগরবাসীকে বেশি আকৃষ্ট করে, নির্বাচনের মাধ্যমেই এই তিন রাজনৈতিক শক্তির আসল জনপ্রিয়তা যাচাই হবে।