শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮:৫১, ৫ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ শহরের জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) দীর্ঘদিনের জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট কাটাতে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে জেলা পরিষদ। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০০ ডোজ ভ্যাকসিন হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সরাসরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই ডোজগুলো হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে কুকুরের আক্রমণের ঘটনা। বিশেষ করে শিশু ও পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর ফলে প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছেন নতুন রোগী। কিন্তু ভ্যাকসিনের ঘাটতির কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের স্বল্পতা ছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। জনস্বার্থ বিবেচনায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫০০ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করছি, এতে সাময়িক সংকট কেটে যাবে এবং রোগীরা সহজেই চিকিৎসা পাবেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা না নিলে প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ভ্যাকসিন সংকটের কারণে অনেক রোগী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডোজ সম্পন্ন করতে পারছিলেন না, যা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছিল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ভ্যাকসিন সরবরাহই নয়, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি। প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৫০ জন রোগী কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর চিকিৎসা নিতে ছুটছেন সরকারি হাসপাতালে। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছিল এসব রোগীকে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঢাকায় গিয়ে ভ্যাকসিন নিচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন করে পাওয়া এই ভ্যাকসিন দিয়ে আপাতত কয়েকদিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে আবারও সংকট দেখা দিতে পারে।
এদিকে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা ভ্যাকসিন সরবরাহে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ঢাকায় গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এখন স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে চিকিৎসা নেওয়া সহজ হবে।