শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:৪৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব আবু সাউদ মাসুদ বলেন, সাক্ষরতা মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রথম সোপান। একজন নিরক্ষর মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
তিনি ব্যাংকের ফরম পূরণ করতে পারেন না, জমির দলিল পড়তে পারেন না, শ্রমচুক্তির শর্ত বুঝতে পারেন না, হাসপাতালে দেওয়া প্রেসক্রিপশন যাচাই করতে পারেন না, সন্তানের বিদ্যালয়ের নোটিশ পড়তে পারেন না।
ফলে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হয় এবং প্রতারণা, বৈষম্য ও শোষণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই আজকের দিনে এই সাক্ষরতার দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আনন্দধামের উদ্যোগে “মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” শীর্ষক এক সেমিনারে সাক্ষরতা দিবসের গুরুত্ব উল্লেখ্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার আনন্দধামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমুর সভাপতিত্বে স্থানীয় নারায়ণগঞ্জ রুপসী বাংলা রেস্টুরেন্টে এ সেমিনারেন আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনন্দধামের অতিরিক্ত চেয়ারম্যান শাহরিয়ার মো. মারুফ ।
এ সময় প্রধান অতিথি আরও বলেন , আজও পৃথিবীর প্রায় ৭৭৫ মিলিয়ন মানুষের ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞানের অভাব রয়েছে। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি পাঁচজনে একজনের রয়েছে শিক্ষার অভাব। এর মধ্যে একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে নারী। গোটা বিশ্বের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ মিলিয়ন শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আনন্দধামের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব লোকমান আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান বাবু শ্যামল দত্ত ও যুগ্ম মহাসচিব মোতালেব সানি, জনাব মজিদ মৃধা, খোকন গাজী, পরিচালক বৃন্দের মাঝে বক্তব্য রাখেন আসকারী বাবু, সারমিন আমিন খান রিয়ান, মুনমুন আসকারী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে জাতীয় উন্নয়নে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মুখ্য আলোচক শাহরিয়ার মো মারুফ বলেন সাক্ষরতার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রিত এই বিশ্বে সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আনন্দধাম সাক্ষরতাকে উৎসাহিত করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছে এবং আজকের এই আয়োজন এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
সভাপতির বক্তব্যে হাসিনা রহমান সিমু বলেন, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা ফ্রী হওয়া সত্যেও নিরক্ষর মানুষ থাকা আমাদের নাগরিক ব্যর্থতা। আমি মনে করি দেশের প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে দেশকে নিরক্ষরতা মুক্ত করতে, এটা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে ৮ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস গুরুত্ব সহকারে সমস্ত বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। মহামান্য রাস্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এই উপলক্ষে বানীও দিয়েছেন।
দিবসটির লক্ষ্য ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের কাছে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা। সাক্ষরতা বলতে জাতিসংঘ থেকে বলা হচ্ছে নিজের ভাষায় চিঠি লিখতে পারা, পড়তে পারা, দৈনন্দিন হিসেব-নিকেশ এর জ্ঞান সম্পূর্ণ হওয়াকে বুঝাচ্ছে।