শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৯:৩৬, ৩০ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই দেখা মিলছে আওয়ামী লীগের সাবেক সমর্থক ও দোসরদের। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও, বর্তমানে তারা ভোল পাল্টে নতুন রূপ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন দলীয় মিটিং-মিছিলে এমনকি পত্রিকার পাতায়ও তাদের উপস্থিতি উঠে আসছে।
গত ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আত্মগোপনে চলে যান। অনেকে বিদেশে পাড়ি জমালেও একটি বড় অংশ স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। প্রথমদিকে উচ্চপর্যায়ের কড়াকড়ি অবস্থানের কারণে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা হলেও, পরোক্ষভাবে তাদের ছায়া দিয়ে রাখা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
পরবর্তী ৬ মাসের ব্যবধানে স্থানীয় কিছু নেতার সবুজ সংকেত পেয়ে তারা প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার আসামি হয়েও তারা নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। পরিবহন খাত, ঝুট ব্যবসা এবং তেলের ডিপোসহ বিভিন্ন লাভজনক সেক্টরে এখনও তাদের দাপটে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করতে এসব ব্যক্তিরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। ওসমান পরিবারের দোসর হিসেবে পরিচিত অনেকে এখন দাবি করছেন ওসমানদের ভয়ে এতদিন চুপ ছিলাম, মূলত আগে থেকেই বিএনপি করি’ কিংবা ‘অতীতে ছাত্রদল বা বিএনপির অমুক পদে ছিলাম’। এসব অযৌক্তিক অজুহাত দিয়ে নিজেদের অতীত অপরাধ ঢাকার অপচেষ্টা করছেন তারা। স্থানীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের নেতারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য দিলেও বাস্তবে এদের লালন-পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে ভিন্ন দলের কাঁধে ভর দিয়ে আওয়ামী দোসররা পুনরায় া প্রতিশোধের আগুনে প্রথম আঘাত হানবে বর্তমান আশ্রয়দাতাদের ওপরই। এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের জন্য নয়, বরং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও এক বিরাট হুমকি ও আতঙ্কের কারণ।
তারা সর্তক করে আরও বলেন, এখনই যদি সকল রাজনৈতিক দল দোসরদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে এবং সতর্ক না হয়, তবে ভবিষ্যতে সকলকেই এর জন্য ভারী মাসুল গুনতে হবে।