শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:১৩, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬
কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হকার ও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্বিষহ যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তি থেকে নগরবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।
সম্মিলিত এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মিয়া চাঁন।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, এনডিএ চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, বিকেএমইএ, ‘উই আর ভলান্টিয়ার, বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিনের যানজট ও ফুটপাত দখলের কারণে নগরবাসী যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন, সাম্প্রতিক কার্যক্রমে তার অনেকটাই কমেছে।
মিয়া চাঁন বলেন, চাষাড়া, মেট্রো হল, কালিরবাজার, ২ নম্বর রেলগেট, মহিলা কলেজের সামনের সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে সড়ক ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এতে শুধু যানজট কমেনি, পথচারীদের চলাচলেও স্বস্তি ফিরেছে।
তিনি আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে যানজট, ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এখন যে পরিবর্তনটি দেখা যাচ্ছে, সেটি নগরবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে কয়েকদিনের অভিযানে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, সমন্বিত উদ্যোগ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ।”
মিয়া চাঁন আরও বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; উচ্ছেদের পর যাতে আবারও ফুটপাত দখল, অবৈধ স্ট্যান্ড কিংবা সড়কের ওপর হকার বসতে না পারে, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে নির্দিষ্ট স্থান বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, “একটি সুন্দর, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজ, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ নাগরিক—সবার দায়িত্ব রয়েছে। আমরা কেউ যদি নিয়ম না মানি, তাহলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই নগরবাসীকেও ফুটপাত ও সড়ক দখল না করার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শহরের যানজট নিরসনে শুধু হকার উচ্ছেদ নয়, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, যত্রতত্র গাড়ি থামানো নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্থানে পরিবহন স্ট্যান্ড স্থাপন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
মিয়া চাঁন বলেন, “আমরা এমন একটি নারায়ণগঞ্জ চাই, যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারবেন, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটকে থাকবে না এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নগরের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি নারায়ণগঞ্জকে যানজট, অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলামুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যবসায়ী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের চলমান সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক কার্যক্রমে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মিয়া চাঁন বলেন, নগরবাসীর স্বস্তির জন্য নেওয়া এই উদ্যোগ কোনো সাময়িক অভিযান নয়; বরং একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমে পরিণত হবে—এটাই প্রত্যাশা।