শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২১:৩৩, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৩, ১১ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাশে থাকবে।
একইভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও বিএনপির পাশে ছিলেন। শারদীয় দুর্গাপূজায় আমরা হিন্দু সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিবো। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা ধানের শীষে ভোট দিয়ে সহযোগিতা না করলে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় নিয়ে সংশয় থাকত।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়ায় হোসিয়ারি সমিতি কমিউনিটি সেন্টারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি ওয়ার্ডের মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের জন্য নিরাপত্তা কমিটি গঠন করে তালিকা তৈরি করতে হবে। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সেই তালিকা মহানগর বিএনপির কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মনিটরিং টিম গঠন করে মণ্ডপে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা তদারকি করতে হবে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানানো প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে টিপু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী বিএনপিপন্থী ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ভোটার হয়েছেন, তাঁদের জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলের পক্ষে কাজ করতে হবে। আর যারা এখনো ভোটার হননি, তাঁদের ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফরম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, সংগঠনের মধ্যে কোনো ধরনের বেয়াদবি বা শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কেউ যত প্রভাবশালী বা ঘনিষ্ঠ নেতা হোন না কেন, অন্যায় করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার আগে ভালোভাবে জেনে-বুঝে কথা বলতে হবে এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। অতীতে বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও তখন অনেকের ভূমিকা দেখা যায়নি—এখন কেন তাঁরা ভূমিকা নিতে চাইছেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক এড. সরকার হুমায়ূন কবির, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এড. রফিক আহমেদ, ডা. মজিবুর রহমান, মাসুদ রানা, এড. বরকত উল্লাহ, হাবিবুর রহমান মিঠু, মাকিত মোস্তাকিম শিপলু, হুমায়ূন কবির, কামরুল হাসান চুন্নু সাউদ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শংকর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন, মহানগরের সভাপতি বিষ্ণপদক সাহা, সহ-সভাপতি সাংবাদিক উত্তম কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস,বাপ্পী রায় চৌধুরী, বন্দর থানা বিএনপি’র সভাপতি শাহেন শাহ্ আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর খান চঞ্চল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন শিশির, ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন রিপন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা, মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এস এম আসলাম, মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ শিবলী, মহানগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাধীনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।