শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮:৫২, ৯ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ. এম. আনোয়ার প্রধান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে দেওয়া লিখিত জবাবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, অস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। এরআগে সকালে এ শোকজ নোটিশ করা হয়।
৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতির বিএনপির দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর জন্য ২৪ ঘন্টার সময় বেধে দেয়া হয়। তবে এর আগেই তিনি জবাব দিয়েছেন আনোয়ার প্রধান। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান তার ফেসবুকে জানান, শোকজের জবাব-সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি জবাবে যা লেখেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো- আপনার স্বাক্ষরিত উক্ত শোকজ নোটিশ পেয়ে দলের প্রতি আমার আনুগত্য অটুট রেখে নিম্নরূপ জবাব প্রদান করছি:
১। সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অনুপস্থিতির অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যাঃ আপনার স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনুপস্থিতির বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত এমন কোন প্রোগ্রাম নেই যে উপস্থিত ছিলাম না এমন কি সর্বশেষ বিগত- ২৫/০৯/২০২৬ ইং তারিখে দেশব্যাপী আওয়ামীলীগের নৈরাজ্য ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করি, নিজে নেতৃত্ব দিই এবং উপস্থিত ছিলাম।
নোটিশে অনুপস্থিতির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা কর্মসূচির উল্লেখ নেই। এ ছাড়াও ৫ই আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে নিজ নেতৃত্বে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত আন্দোলন সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সদা সচেষ্ট ছিলাম। যার দরুন আমার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় ২১ টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করেন এবং আমি প্রায় ১২৫ দিন জেল হাজতে বন্দি ছিলাম।
২। বিগত-০৬/১০/২০২৬ ইং তারিখে ঘটনায় আমার ভূমিকার বিষয়ে স্পষ্টকরণঃ ঐ দিন জনাব সাখাওয়াত হোসেন খান তার বডি গার্ড পুলিশ সদস্যের সহযোগীতায় তার নেতৃত্বে এ্যাড.এস.এম গালিব (জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম হইতে বহিষ্কৃত),এ্যাড.আজিজ মোল্লা, এ্যাড. সাইদুর রহমান , এ্যাড. জাকির হোসেন, এ্যাড. কামাল মোল্লা (জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম হইতে বহিষ্কৃত) নারায়ণগঞ্জ দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ পিপি মহোদয়ের উপর কোন ধরনের উস্কানী ব্যতিতই অতর্কিত হামলা করে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন।
যার প্রেক্ষিতে সাধারণ আইনজীবীরা পিপি সাহেব কে রক্ষার্থে এগিয়ে আসলে যেন কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটতে পারে সেই বিষয়ে সচেষ্ট থাকি এবং আমি কোনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করিনি, তাঁর উপর মারমুখী হইনি। সাধারণ আইনজীবী কর্তৃক তিনি অবরুদ্ধ হলে আমি সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করি কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে বিজ্ঞ পিপি মহোদয়ের উপর হামলা করায় প্রতিবাদ ও পুলিশ সদস্যর বিচার দাবি করি।
৩। অনলাইন মিডিয়াতে প্রচারকৃত আমার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যাঃ কিছু কিছু অনলাইন মিডিয়াতে আমার বক্তব্যের আংশিক প্রচার করে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। এ ছাড়াও শোকজ নোটিশের কোথায় সু-নির্দিষ্টভাবে কোন মিডিয়াতে কি বক্তব্য প্রদান করেছি তার সু-স্পষ্ট বর্ণনা না থাকায় লিখিত জবাবে এ বিষয়ে সু-নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব নহে।
৪। স্পেশাল পিপি এ্যাড. সুমন সংক্রান্ত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ্যাড. সুমন শোকজ নোটিশে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি বা অন্য কোন এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষের বরাবর কোন লিখিত অভিযোগ ও করেন নাই সুতরাং এই বিষয়ে কারণ দর্শাইতে নোটিশ প্রদান সমীচীন নয়।
৫। অভিযোগের বিবরণ অস্পষ্ট ও সু-নির্দিষ্ট নয় এবং শোকজ নোটিশের জবাব প্রদানের জন্য ২৪ ঘন্টা সময় প্রদান প্রাকৃতিক ন্যায় বিচারের পরিপন্থী এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বটে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিবেদিত কর্মী। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বিজ্ঞ আইনজীবীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব কর্তৃক শোকজ নোটিশ প্রদান করা অযৌক্তিক ও অসমীচীন।
অতএব, উপরোক্ত বিষয় সমূহ বিবেচনায় নিয়া আমার বিরুদ্ধে আনীত কারণ দর্শানোর নোটিশটি প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন করছি।