শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০০:৫৮, ২১ এপ্রিল ২০২৬
অঞ্জন দাস। বর্তমানে তিনি গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) আসনের এমপি ক্যান্ডিডেটও ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের কাছে ধরাশায়ী হন। এরপর থেকে তিনি কিছুটা নিরবেই ছিলেন।
কিন্তু নগরীর হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তিনি আবার মাঠে ফেরেন। গত ১৩ এপ্রিল নগরীর হকার উচ্ছেদ কর্মসূচিতে তিনি একাত্মতা পোষণ করে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে ছিলেন। শুধু তাই নয়, হকার উচ্ছেদে সক্রিয় ভূমিকাও রাখেন তিনি।
এদিকে হকার উচ্ছেদ হওয়ার পর নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আবুল কালামসহ উচ্ছেদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বিভিন্ন দলীয় নেতাকর্মীরা প্রশংসীত হন। সেই প্রশংসার ভাগিদার কিন্তু অঞ্জন দাসও ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই প্রশংসার মাঝে বিষ ছড়িয়ে দেন তিনি। মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তিনি উচ্ছেদের পক্ষ বদল করে হাত মিলান বিতর্কীত হকারদের সাথে।
২০ এপ্রিল (সোমবার) দুপুরে উচ্ছেদের প্রতিবাদে তিনি হকারদের সভামঞ্চে এসে হাজির হন। বক্তব্য দেন হকারদের পক্ষে। তিনি বলেন, আমরা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে নই, তবে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা এসব মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ সময় তিনিসহ অন্যান্য বক্তারা পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, উচ্ছেদকৃতদের তালিকা তৈরি করা, পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত বিকেল ৫টা থেকে ফুটপাতে বসার সুযোগ দেওয়া এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এদিকে এ ঘটনায় অঞ্জন দাসকে নিয়ে শহরজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। যারা ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মিডিয়াপাড়ায় পর্যন্ত। কেউ কেউ বলেন, আসলে এসব নেতাদের কোন আদর্শ নেই। নিজেরদের সুবিধা বুঝে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন। এক সেকেন্ডও সময় লাগেনা তাদের বদলাতে। যেই মুখ দিয়ে তারা অন্যকে ভালো বলে, স্বার্থের কারণে আবার সেই মুখ দিয়েই তাদের খারাপ বলতেও দেখা যায়।
নগরবাসী এ ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, লোকটাকে দেখেতো আগেই ভালোই মনে হত। ভাবতাম তিনি জনতার কথা বলেন, জনতার পক্ষেই থাকেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে জনতার পক্ষেই বেশি কথা বলতে দেখতাম। কিন্তু সেই মানুষটির এমন দ্বৈত চরিত্র সত্যিই নগরবাসীকে অবাক করেছে। তার মত একজন সচেতন মানুষ কিভাবে ওই হকারদের পক্ষে যেতে পারলেন, তা আমাদের বোধগোম্য হয় না।
যদি হকারদের পক্ষেই থাকবেন তাহলে আবার তাদের উচ্ছেদে কেন ভূমিকা রাখলেন? জনতার সাথে এমন প্রতারণা করার মানে কি? আমরা চাইবো, তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বদল করে জনতার পক্ষে চলে আসবেন।
এ ঘটনায় বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, আসলে অঞ্জন দাসের বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে তিনি যেটা করেছেন বা করছেন তা সত্যিই নিন্দনীয়। একজন মানুষতো আর দুজনার পক্ষ নিতে পারে। তাকে অবশ্যই একটি পক্ষ অবলম্বন করতে হবে। অতীতে যারাই দ্বৈত চরিত্র নিয়ে মাঠে থেকেছেন, তাদের পরিনাম খুব একটা ভালো হয়নি।
এদিকে সোমবার (২০ এপ্রিল ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল সুজন বলেন, গত ১৩ এপ্রিল, হকার উচ্ছেদের পক্ষে মাঠে নামা ছিল আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। সেখানে গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ, মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র ফেডারেশনেন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল।
আজ ২০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে যে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই ব্যানারের সাথে গণসংহতি আন্দোলনের কোন সম্পর্ক নাই। একই সাথে সেই ব্যানারের নেতৃত্বের মধ্যে অঞ্জন দাসও একজন। ১৩ এপ্রিল তিনি নিজে হকার উচ্ছেদের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এবং হকার উচ্ছেদের পক্ষেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন।
তার আজকের অবস্থানের সাথে গণসংহতি আন্দোলনের কোন সম্পর্ক নাই। দলীয় সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে গিয়ে আজ তিনি হকারদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এটা তার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলীয় সিদ্ধান্ত নয়।
তিনি আরো বলেন, আজ সন্ধ্যা ৭ টায় জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবং সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অনুরোধ জানানো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
তারিকুল সুজন সুজন আরো বলেন, একটি আধুনিক নিরাপদ এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে গণসংহতি আন্দোলন দীর্ঘদিন কাজ করছে। গুম-খুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের নেতা কর্মীরা জানবাজি রেখে লড়াই করেছি।
নগরবাসী হকার উচ্ছেদ চায় কারণ নগরবাসী পরিকল্পিত এবং পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জে তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ দেখতে পায়। নগরবাসীর স্বার্থের বাইরে গণসংহতি আন্দোলনের আলাদা স্বার্থ নাই। নগরবাসীর স্বার্থই গণসংহতি আন্দোলনের স্বার্থ।