শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৬:২৮, ৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২৯, ৮ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ-কে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছে নগরীর তল্লা এলাকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন সাধারণ পাঠাগার।
একই অনুষ্ঠানে পাঠাগারের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। `সত্য সমুজ্জ্বল আলোর সন্ধানে’ স্লোগানকে ধারণ করে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে প্রগতিশীল সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় নগরীর তল্লা এলাকায় পাঠাগার প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
পরে সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদকে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথিদেরও ফুল ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পাঠাগারের সদস্যরা।
পরবর্তীতে স্থানীয় কাউন্সিলর, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী লিপি খন্দকার, ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অহিদুল ইসলাম ছক্কু, বৃহত্তর তল্লা পঞ্চায়েতের সভাপতি মো. শমশের আলী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং নারী নেত্রী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক রহিমা শরীফ মায়া।
বক্তারা পাঠাগারটির দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সমাজে বইপড়া ও পাঠাগারভিত্তিক চর্চা তরুণ সমাজকে আলোকিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মল্লিকা খাতুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আজকের আমি হওয়ার পেছনে এই পাঠাগারের বড় ভূমিকা রয়েছে।
মানুষকে কিভাবে গুরুত্ব দিতে হয়, কিভাবে মানুষের সেবা করতে হয়, তা এখান থেকেই শিখেছি। ৩৬ বছর আগে নারী-পুরুষ একসঙ্গে যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু করেছিলাম, তার অনুপ্রেরণার জায়গা ছিল এই পাঠাগার।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমি নির্বাচিত হইনি, নির্বাচিত করেছেন আপনারা। জয়ী হয়েছেন আপনারাই।
আপনাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি আপনাদের পরিবারেরই একজন। তিনি বলেন, “২০ বছর পর আপনাদের মাঝে এসেছি শুধুমাত্র আপনাদের কারণেই।
পাঠাগারকে সংরক্ষণ করতে হবে এবং যুবসমাজকে সংঘবদ্ধ করার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এ সময় তিনি সমাজ থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবারকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
এমপি বলেন, “ছেলেমেয়েরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে সেদিকে পরিবারের নজর রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দুর্নীতি চলছে, ফলে অনেকে খারাপ পথে জড়িয়ে পড়ছে।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ বলেন, “এখানে আসার আগে ভেবেছিলাম এটি সাধারণ একটি পাঠাগার। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে এটি আসলে ‘অসাধারণ পাঠাগার’। পাঠাগার শুধু বইয়ের গুদাম নয়, এটি জ্ঞানের আধার।
তিনি পাঠাগারের সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বই প্রদান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া পাঠাগারটির উন্নয়ন ও কার্যক্রমে সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।
মামুন মাহমুদ বলেন, “একটি পাঠাগার পুরো সমাজ ও দেশকে আলোকিত করতে পারে। এখান থেকে অনেক প্রতিষ্ঠিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছেন।
তাই এই পাঠাগারকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং এর প্রতি সবার সুদৃষ্টি থাকা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে কুতুবউদ্দিন শাহিন বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সবাই এটিকে সফল ও সার্থক করেছেন। আমরা চাই আপনাদের সহযোগিতায় পাঠাগারটির পরিসর আরও বিস্তৃত হোক এবং এটি সমাজে আরও বড় ভূমিকা পালন করুক।”
সবশেষে সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ যৌথভাবে ‘সাধারণ পাঠাগার’-এর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
এসময় অন্যান্য অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম।
উল্লেখ্য, ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ।