শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২১:৩৪, ১৫ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় নাইমা আক্তার তানিয়া (৩৫) নামে তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূর জুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) সকালে শহরের ১নং বাবুরাইলের মোবারক শাহ্ রোডের মৃত আতাহার হোসেন শামসুল হকের বাড়ীর ৩য় তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গৃহবধূর তানিয়া ওই এলাকার মো: মহসিনের (৪৫) স্ত্রী। তাদের রায়হান (৮) নামে এক পুত্রসন্তান ও মুনা আক্তার (১২) নামে এক কন্যা সন্তানও রয়েছে।
জানাগেছে, সোমবার রাতে ছেলে রায়হান ও মেয়ে মুনাকে নিয়ে মোবাইলে এক কক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে বাবা মহসিন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে সন্তানদের নিয়ে মহসিন ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল ৮ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ছেলে রায়হান তার মাকে খুঁজতে গিয়ে দেখে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানের সাথে তার মায়ের মরদেহ ঝুলছে।
পরে তার চিৎকারে বাবা মহসিনসহ আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে তারা সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থালে যাওয়া এক পুলিশ সদস্য বলেন, আমরা ঘটনাস্থালে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহটি দেখতে পাই। পরে তাকে মর্গে নিয়ে যাই। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটা একটি সুইসাইড কেস।
তবে এ বিষযে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গৃহবধূ তানিয়ার ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুর পেছনে তার স্বামী মহসিনই দায়ি। কারণ, মহসিন দুই বিয়ে করেছে। এ নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে প্রায় ঝগড়া-ঝাটি হতো। মহসিন ও তার ভাইয়েরা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় প্রায়শ তানিয়ার সাথে প্রভাব খাটাতো।
মহসিন তানিয়াকে বলতো, আমি যা বলবো তাই হবে। তোর সতীন নিয়েই সংসার করতে হবে। তুই কার কাছে বিচার দিবি, সব আমাদের লোক। এখন বিএনপি ক্ষমতায় তুই আমাকে মামলা দিয়ে কিচ্ছু করতে পারবি না।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করে বলেন, আমরা যতটুকু জানি স্বামীর নিয়মিত শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনের কারণে তানিয়া সদর থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের কি অবস্থা আমরা সেটা জানিনা। তানিয়ার এভাবে চলে যাওয়াটা সত্যিই খারাপ লাগছে।
তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি গৃহবধূ তানিয়ার মা নাছিমা বেগম। তিনি শুধু বলেন, ‘আমার আর কি বলার আছে? আমারতো সবই শেষ। খোদাতায়ালা যেন বিচার করে। আর কেউ বিচার করার নাই। থানা-পুলিশ কেউ বিচার করার নাই। আল্লাহ্ তায়ালা আছে। আল্লাহ্ তায়ালা ছাড়া কেউ নাই।’