নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

না’গঞ্জে মন্দিরে ঢুকে পূজায় বাধা ও হুমকি, খোকন সাহার মামলা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:০৭, ১৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৮, ১৭ জুলাই ২০২৬

না’গঞ্জে মন্দিরে ঢুকে পূজায় বাধা ও হুমকি, খোকন সাহার মামলা

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন একটি মন্দিরে ঢুকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজায় বাধা সৃষ্টি, মালামাল ভাঙচুর এবং মূর্তি পূজাকে ‘শিরক’ আখ্যা দিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপস্থিত লোকজন হুমকিদাতা ইয়াসিন নাবিল (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। 

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) মন্দিরের সদস্য ও ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন সাহা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মন্দির কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ননী গোপাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ জর্জ কোর্টের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট রাজীব মন্ডল ও উক্ত মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী ও মন্দিরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এরআগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে লয়েল ট্যাংক রোডস্থ ‘শ্রী শ্রী ত্রিপল লিঙ্গ মঠ দরিদ্র ভাণ্ডার কালী মন্দির’-এ ঘটনাটি ঘটে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১২ টা ২০ মিনিট থেকে ১২টা ২৫ মিনিটের মধ্যে পাঞ্জাবি ও পায়জামা পরিহিত আনুমানিক ২৬ বছর বয়সী এক অপরিচিত যুবক মন্দিরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। ওই সময় সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘কাঠাম পূজা’ চলছিল। যুবকটি পূজার স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং পূজার আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম ও ফলমূল লাথি মেরে ফেলে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত যুবকটি “মূর্তি পূজা শিরক, পূজা বন্ধ করতে হবে” বলে সেখানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে নানারকম কটুূক্তি ও হুমকি প্রদান করতে থাকে। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত লোকজন তাকে আটকে রাখে এবং কিছুটা উত্তম-মধ্যম দেয়। 

পরবর্তীতে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিলা-ফুলা ও জখমপ্রাপ্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। পুলিশ হেফাজতে থাকার পরও যুবকটি একই ধরণের বক্তব্য দিতে থাকে এবং প্রথমে নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

পরবর্তীতে অমিত হাসান (৪৮) নামে এক ব্যক্তি থানায় এসে পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই যুবককে নিজের ছোট ভাই হিসেবে শনাক্ত করেন। 

তিনি জানান, আটক যুবকের নাম ইয়াসিন নাবিল (২৬), সে বন্দর মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছে। তারা বর্তমানে বন্দর থানার রূপালী আবাসিক এলাকায় বসবাস করছে।

থানা পুলিশ ধৃত আসামি ইয়াসিন নাবিলের চিকিৎসার ব্যবস্থা শেষে গত বৃহস্পতিবার ১৬ই জুলাই তাকে আদালতে প্রেরণ করেছে। ঘটনাটি নিয়ে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার পর থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন