নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা অন্য জেলার জন্য অনুকরণীয় : ডিসি

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ০১:৫৮, ৬ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা অন্য জেলার জন্য অনুকরণীয় : ডিসি

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে আপনারা যেভাবে একত্রে কাজ করেছেন, সেই ঐক্য আগামীতেও ধরে রাখতে হবে। আলোচনা-সমালোচনা থাকবে, কারণ প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার যে সংস্কৃতি এখানে গড়ে উঠেছে, তা অন্য জেলার জন্য অনুকরণীয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।

ডিসি রায়হান কবির বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য সরকার তার সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ গঠিত হয়েছে। তারা কীভাবে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে স্থায়ীভাবে দাঁড়ানো যায় তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতীয়ভাবে ধারণ করতে রাস্তার নামকরণ, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং শহীদদের কবর সংরক্ষণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ছোটখাটো যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো আপনাদের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত সমাধান করে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নারীদের জন্য সেলাই মেশিন প্রদানসহ আয়ের পথ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই অর্জন, তাদের যথাযথ সম্মান দিয়ে তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই দেশের সকল উন্নয়ন আমরা এগিয়ে নিতে চাই।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জের সামাজিক ঐক্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবেই সম্প্রীতির জেলা। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয়  সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত এখানে রয়েছে, তা সত্যিই বিরল। অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনায় আমি গর্বের সঙ্গেই নারায়ণগঞ্জের কথা বলি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব।

এছাড়াও ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ, বর্তমান আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার, মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন