নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

শহরের গলাচিপায় দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট : মামলা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২০:৩২, ২৫ আগস্ট ২০২৬

শহরের গলাচিপায় দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট : মামলা

নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা ডিএনরোড এলাকায় দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত রহমতউল্লাহকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী মো. রহমতউল্লাহ (৫৫) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার-২৭ তাং ২৫/৮/২০২৬ ইং। রহমতউল্লাহ অভিযোগ জমি দখলের উদ্দেশ্যেই তিনি ও তার পরিবারের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ প্রাণঘাতী হামলা চালায়।   

এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন- ভুক্তভোগীর বড় ভাই  ফরমা লালু, বড় ভাই আরব চান, ছোট বোন পাকনা বিউটি, লালুর ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী ফাহিম, বিউটির মেয়ে মিম এবং মিমের স্বামী বস্তির ছেলে রানা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,  রহমতউল্লাহ পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিবাদে না গিয়ে বাবার দেওয়া জমি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের উপার্জিত টাকায় গলাচিপা এলাকায় আড়াই (২.৫) শতাংশ জমি ক্রয় করেন। উক্ত জমির যাবতীয় বৈধ দলিলাদি, স্ট্যাম্প, নামজারি ও মিউটেশন তার নামেই রয়েছে। 

কিন্তু উক্ত জমির ওপর কু-নজর পড়ে অভিযুক্তদের। এর আগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় এক সালিশ বৈঠকে পুলিশ প্রশাসন রহমতউল্লাহর যাবতীয় কাগজপত্র দেখে জমির মালিকানা তার বলেই নিশ্চিত করেন। তবে থানার সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে অভিযুক্তরা জমি দখলের চক্রান্ত চালাতে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত ১ থেকে ৫-এর নির্দেশে ও প্ররোচনায়, ৬নং অভিযুক্ত বস্তির ছেলে রানা মামুন খানের লোক পরিচয়ে বাহির থেকে ২০-৩০ জনের একটি ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রহমতউল্লাহর গলাচিপাস্থ দোকানপাটে অতর্কিত হামলা চালায়। 

হামলাকারীরা দোকানে থাকা মালপত্র, আসবাবপত্র ও চালের টিন ভেঙে ছত্রখান করে দেয়। রহমতউল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের ভেতর থেকে মালামাল টেনে-হেঁচড়ে বাইরে ফেলে দেয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ও নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।

ভাঙচুর ও হামলার সময় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ’৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশ প্রশাসনের আইনী সহায়তা কামনা করেন।

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সত্যতা দেখতে পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ উভয় পক্ষকেই তাদের প্রয়োজনীয় যাবতীয় বৈধ কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করে।

এদিকে রহমতউল্লাহ জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও বেপরোয়া প্রকৃতির হওয়ায় তারা এখনো আশপাশে অবস্থান নিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে তারা আতংকে দিনাতিপাত করছেন ।

এঘটনায় রহমতউল্লাহ ও তার পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ জানমালের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন