শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩:৫৮, ৩০ আগস্ট ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক:
সড়কের তীব্র বিশৃঙ্খলা, অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল আর দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে নারায়ণগঞ্জ নগরীতে যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। দিন কিংবা রাত, কোনো সময়ই যানজটের দুর্ভোগ থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না নগরবাসী।
নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটার প্রধান সড়কে সৃষ্টি হওয়া স্থবিরতা এখন পুরো শহরের জীবনযাত্রাকে অচল করে দিয়েছে। এতে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা, আর বছরে ক্ষতি হচ্ছে হাজার কোটি টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাঢ়া অংশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা যানজট লেগে থাকছে। মূল সড়কের চাপ ছড়িয়ে পড়ছে শহরের পার্শ্ববর্তী ছোট-বড় রাস্তাগুলোতেও। ফলে অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকছেন।
ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি বিকেএমইএ এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠে কাজ করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। চালক ও সাধারণ যাত্রীদের মতে, ট্রাফিক পুলিশের সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপ সুফল দেওয়ার বদলে যানজটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
নগরীর এই ভয়াবহ ট্রাফিক সংকটের নেপথ্যে বেশ কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, “শহরের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট পরিস্থিতিকে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তুলেছে।
এছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকানপাট বসানোয় চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মধ্যে কোনো কার্যকর সমন্বয় নেই।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্ভোগের মূল কারণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতা ও একে অপরকে দোষারোপ করার প্রবণতা। কোনো পক্ষই স্থায়ী সমাধানের জন্য দৃশ্যমান কাজ করছে না।
নগরবাসীর ভোগান্তি নিরসন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বন্ধে কেবল অস্থায়ী পদক্ষেপ না নিয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত ও কার্যকর যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শহরের অতিরিক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত না করলে নারায়ণগঞ্জের যানজট পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মনে করছেন নগরবাসী।