নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কদম রসুল সেতু হলে না’গঞ্জ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে : এমপি কালাম

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৬:৪৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কদম রসুল সেতু হলে না’গঞ্জ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে : এমপি কালাম

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম বলেছেন, শীতলক্ষ্যা নদীর কারণে নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও শহরাঞ্চল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। কদম রসুল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই বিচ্ছিন্নতা দূর হবে। সেতুটি নির্মিত হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে।
‎
‎বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের চারারগোপ এলাকায় কদম রসুল সেতুর নির্ধারিত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
‎
‎এড. আবুল কালাম বলেন, “আমাদের বন্দরবাসী ও শহরবাসী সবাই অবগত আছেন—শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের দাবি ছিল, কীভাবে বন্দর ও শহরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। এই সেতু নির্মাণ সেই দীর্ঘদিনের দাবিরই বাস্তবায়ন।”
‎
‎তিনি বলেন, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে কদম রসুল সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, এটি বন্দর ও শহরের মানুষের জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
‎
‎অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, “উচ্ছেদ মানেই অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া। যারা আইনের বাইরে আছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্যই এই প্রক্রিয়া। জনগণের স্বার্থ ও দীর্ঘদিনের চাহিদার ভিত্তিতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
‎
‎তবে উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এখানে যারা ব্যবসা করছেন তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাদের যাতে অযথা অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
‎
‎কদম রসুল সেতু নির্মাণ হলে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন উল্লেখ করে আবুল কালাম বলেন, “যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যও বৃদ্ধি পাবে। তাই এই প্রকল্পে জনগণের স্বার্থই একশ ভাগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। বন্দরবাসী ও শহরবাসীর সহযোগিতায় আমরা আশা করি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারব।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। এর একটি সৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যার ওপর সেতু নির্মাণ এবং অন্যটি মোরগাপাড়া থেকে শীতলক্ষ্যা পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যও চেষ্টা করা হচ্ছে।
‎
‎নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদিকাল থেকেই শিল্প ও বাণিজ্যের নগরী হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ অঞ্চলে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। তাই নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়; এটি পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর নাগরিক চাহিদা।
‎
‎তিনি আশা প্রকাশ করেন, কদম রসুল সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে বন্দর ও শহরের মানুষের চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং নারায়ণগঞ্জ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হবে।
‎
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, প্রধান প্রকৌশলী আজগর হোসেনসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে ও কদম রসুল সেতু সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন