নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আবারো নাসিকে বিতর্কিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তফা, সমালোচনার ঝড়

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮:৪২, ৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪২, ৯ এপ্রিল ২০২৬

আবারো নাসিকে বিতর্কিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তফা, সমালোচনার ঝড়

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একসময়ের বিতর্কিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলীকে ফের পদায়ন করেছে সরকার। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে অপসারিত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা আবারও পদায়িত হওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির সংকটময় সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব পালনকালে মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলীর বিরুদ্ধে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সেখান থেকে অপসারণ করে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় বদলি করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে দেখা যায়, একই কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলীকে পুনরায় ৩ (তিন) বছরের জন্য প্রেষণে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে পদায়ন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশের দাবি—যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তাকে পুনরায় সেই একই জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এমন অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে তারা সিটি কর্পোরেশনে দেখতে চান না।

অনুসন্ধান বলছে, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের তোপের মুখে হিসাব দিতে ব্যর্থ হন তৎকালীন মেডিকেল অফিসার শেখ মোস্তফা আলী এবং ইপিআই সুপারভাইজার মোঃ হাফিজুর রহমান। এতে ক্ষুব্দ হয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, “গত ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ৭৪৫ কর্ম দিবসের বেতন ভাতা এবং বোনাস আমরা ঠিক মতো পাইনি। গত ২০২১ সালে ভুক্তভোগী কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করেছিলো এবং তৎকালীন সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর নির্দেশে ১০ লক্ষ টাকাও পেয়েছিলো।”

সূত্র মতে, সারা বিশ্বে যখন মহামারী কোভিড ১৯ শুরু হয়,তখন সারাদেশে ফ্রি ভেকসিন সেবা কার্যক্রম শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় নাসিক কার্যালয়েও ভেকসিন দেওয়া হয়েছিলো। এতে খরচের খাত সমূহ ৯ ভাগে করা হয়। টিকা দানকারীদের সম্মানী বাবদ, স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী ভাতা, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ভেকসিন ও লজিস্টিক পরিবহন (পোর্টার), ভেকসিন লজিস্টিক পরিবহন (সিভিল সার্জন অফিস হতে জোন), ২য় সারির সুপার ভাইজার, ১ম সারির সুপার ভাইজার, স্টেশনারী, ওয়ার্ড মাইকিং। 

আন্দোলন কারীদের অভিযোগ ছিলো ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ভেকসিন আনা নেওয়া এবং মাইকিং বাবদ এই ফান্ড থেকে খরচ করার কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব গাড়ি, মাইকিং এবং ডাটা এন্ট্রির যাবতীয় কাজ করে অর্থ লোপাট করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শেখ মোস্তফা আলী যার পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা।

নাগরিকদের প্রশ্ন, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও নিষ্পত্তি ছাড়া কেন তাকে পুনর্বহাল করা হলো? এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক মহল এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জনস্বার্থ ও সুশাসনের স্বার্থে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

করোনাকালে দুর্নীতির অভিযোগে মুন্সীগঞ্জে বদলি হওয়া এক চিকিৎসককে পুনরায় নারায়ণগঞ্জে পদায়ন করায় নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আপত্তি তৈরি হয়েছে, এবং তারা এমন কর্মকর্তাকে সিটি কর্পোরেশনে দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন