শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:৫০, ১৬ জুন ২০২৬
কথায় বলে “ঠেলার নাম বাবাজী”। আর তাইতো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া আল্টিমেটামের শেষ দিনে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের চিত্রের আমূল পরিবর্তনে আদা জল খেয়ে লেগেছে হাসপাতাল প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাসপাতালের রান্না ঘর থেকে শুরু করে ভবনের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার, মেরামত ও রঙ করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় হাসপাতালের কর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। হাসপাতালজুড়ে জমে থাকা দীর্ঘদিনের নোংরা ও ময়লা পরিস্কারে টনক নড়েছে তাদের। হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তাগণও মিটিং ও পরিকল্পনাসহ বিশেষ নজরদারী করছেন এই কাজে।
গত রোববার (১৪ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল থেকে দেশের ১০টি জেলায় ১০টি আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধনের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই আয়োজনের পূর্বে তিনি হাসপাতালের রান্নাঘরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে পুরো হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে আজ (১৬ জুন) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন মন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিবেশ উন্নত করতে না পারলে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। যার ফলে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দয়া করে আপনারা একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোনিবেশ করবেন। আজকে এই হাসপাতাল দেখলাম, একটি হাসপাতালে মন্ত্রী আসবে, সচিব আসবে, ডিজি আসবে। অথচ আমি আপনাদের হাসপাতাল ঘুরে যা দেখলাম, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমি বাংলাদেশের অনেক জায়গায় গিয়েছি। তারা আমাদের ভয়ে হলেও হাসপাতাল পরিষ্কার রেখেছে, কিন্তু আপনারা সেটা করেননি।’
সিভিল সার্জনকে ভর্ৎসনা করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনাকে আমি পরশুদিন (আজ) পর্যন্ত সময় দিয়ে গেলাম। এখানকার রান্নাঘর থেকে সকল নোংরা ও অব্যবহৃত জিনিস বের করতে হবে। এখানে যে নোংরা দাহ্য পদার্থ আছে সেগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
যেকোনো সময় আগুন লাগলে তা নেভানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এই সময়ের ভিতরে আপনি এগুলো পরিষ্কার করতে না পারলে আপনার বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশনে যাবো।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রান্নাঘর, ওয়াশরুমের বেহাল দশা এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে এখানে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি’।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না। এমনকি কিছু চিকিৎসক নিজেদের ফ্যাসিস্টবিরোধী দাবি করলেও, বিগত সরকারের সুবিধাভোগী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
এই সিন্ডিকেটের দাপটেই হাসপাতালের প্রশাসনিক ও সেবামূলক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বর্তমান জনসমর্থিত সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই সিন্ডিকেট এবং হাসপাতালের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা তদন্ত করে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।