শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:০৩, ৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৪, ৮ জুলাই ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ শহর একটি জনবহুল শহর। যে শহরের বাসিন্দারা বছরের পর বছর ফুটপাত ছেড়ে হেঁটেছে সড়কের ওপর দিয়ে। একসময় যেখানে যানজট ছিল নিত্যসঙ্গী, খাল-পুকুর দখলের পাশাপাশি অবহেলার স্বীকার ছিল সাধারণ মানুষ, নাগরিক সেবার অভাবে ক্ষোভ ফুসছিলো নাগরিকদের মস্তিষ্ক। ঠিক সে সময় পাল্টালো বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসলো বিএনপি।
তারপর পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশের মত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে বসালো প্রশাসক। মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর থেকে নাসিকের উন্নয়নে তিনি নানামুখী পরিকল্পনা নিতে থাকেন।
এরফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। নবনিযুক্ত প্রশাসক সাখাওয়াত খানের ধারাবাহিক কাজকর্ম উদ্যোগের ফিরিস্তি এখন ঘুরছে নগরজুড়ে মানুষের মুখে মুখে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো একে একে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে বর্তমানে সাখাওয়াত নাগরিকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু উঠে এসেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলো হলো ফুটপাত হকারমুক্ত করা।
বছরের পর বছর অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাতের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। অতীতে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান হলেও রাজনৈতিক প্রভাব, বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর বাধা ও সংঘাতের কারণে তা স্থায়ী হয়নি।
কিন্তু প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান নির্ধারিত সময় ঘোষণা করে নিজে মাঠে থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। শুধু উচ্ছেদেই থেমে থাকেননি, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা কার্যকর রাখারও উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি উচ্ছেদ কর্মকর্তা নিয়োগ করলেন সাথে অর্ধশত কর্মী এবং তাদের কাজে গতিশীলতা আনার জন্য কয়েকটি গাড়ি, ট্রাক দিলেন। ফলে দীর্ঘদিন পর নগরবাসী ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার পথ, আর ব্যবসায়ীরাও পাচ্ছেন তুলনামূলক সুশৃঙ্খল পরিবেশ।
এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতেই ঘন্টার পর ঘন্টা জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকতো শহরের প্রধান সড়ক বি বি রোড। তার উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে এ সড়কে সূদুর প্রসারী পরিকল্পিত ড্রেনেজ নিমার্ণের চলমান প্রকল্পের ছোয়ায় এ সড়কটি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে। আর নগরবাসীও দির্ঘদিনের দূর্ভোগ পেয়েছেন মুক্তি।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যানজট। নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র বিবি রোডের দীর্ঘ যানজট কমাতে চাষাড়া মহিলা কলেজ এলাকা থেকে রেললাইনের পাশ ঘেঁষে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বিকল্প সড়ক উন্মুক্ত করেন। এই সড়ক বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা ছিল অবৈধ দখল। সেই বাধা অতিক্রম করে নানন্দিক সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, সাখাওয়াতের দূরদর্শী পরিকল্পিত পরিকল্পনা এবার বাস্তব রূপ পাচ্ছে। শুধু সড়ক নয়, নগরীর পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষাতেও নেওয়া হয়েছে দৃশ্যমান উদ্যোগ। দেওভোগের ঐতিহাসিক জিউস পুকুর যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বিরোধের প্রতীক হয়ে ছিল সেটি ভেকু দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
পাশাপাশি এলাকাবাসীর জন্য সেখানে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সনাতন ধর্মালম্বীর নগরবাসীর জন্য নতুন এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হবে।
অন্যদিকে পানির সংকট নিরসনেও চলছে ধারাবাহিক কার্যক্রম। নতুন ওয়াসা পাম্প স্থাপন, পুরোনো পাম্প সংস্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। এর পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, ড্রেন পরিষ্কার, নতুন ড্রেন নির্মাণ, খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন, বর্জ্য অপসারণ, ভাঙা সড়ক সংস্কার এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে স্থায়ী পরিবর্তন।
নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতেও তিনি নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে তিনি নিজেই বর্জ্য অপসারণের কাজ তদারকি করে সাধারণ জনগণের হৃদয়ে অনন্য হয়ে উঠেছেন। বর্জ্য অপসারণের গাড়িতে চড়ে তদারকি করা, পরিচ্ছন্নকর্মী ও নগরবাসীকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়ে নানা কর্মসুচীর বাস্তবায়নে সহযোগীতা ও উৎসাহিত করতে তার নিজের হাতে শহরের বর্জ্য অপসারণ করা যুগান্তকারী দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।
নগরবাসীর অনেকের ভাষায়, বহুদিন পর তারা উন্নয়নের কাজ চোখে দেখতে শুরু করেছেন। যদিও এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
নাসিকের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার উত্তরণ এবং এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে প্রশাসক সাখাওয়াতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাসিকের উন্নয়নে সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জনগণের স্বার্থে কাজ করতে বলেছেন।
তাঁর নির্দেশনা ও আন্তরিক সহযোগীতায় এসব উন্নয়ণ কাজ হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক উন্নয়ণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এর সুফলও নাগরবাসী ভোগ করতে শুরু করছেন। পর্যায়ক্রমে নগরবাসীর সকল সমস্যার সমাধান হবে।
নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি তার ভালোবাসা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী অত্যন্ত সহজ-সরল। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। এই শহরকে সুন্দর রাখতে হলে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই মিলে এগিয়ে এলে আমরা একটি বাসযোগ্য আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে পারব। আমি সকলের সহযোগিতা চাই।