নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের ৫ জনসহ নিহত ৬

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২০:২৫, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৯, ২৮ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের ৫ জনসহ নিহত ৬

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।  নিহতদের মধ্যে ৫ জনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ এবং ১ জনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলায়। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।এমন মর্মান্তিক খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

নিহতরা হলেন- আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামের মো. ফাহিম সরকার (২৮), মোহাম্মদ আপন আহমেদ (২৪), নূর মোহাম্মদ (৫৫), তৈলখিরার চর গ্রামের ফয়সাল (২৬), বক্তাবলী ইউনিয়নের লক্ষীনগর গ্রামের শাহীন (৩০) এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার মীরকাদিম পৌরসভার রাজিব (৫৫)। 

জানাগেছে, রাতে দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার প্রিটোরিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।   

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, আলীরটেক ইউনিয়নের রওশন মেম্বারের বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে সাউথ আফ্রিকায়। নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকেই ৬ থেকে ৮ বছর আগে সেখানে সুপারশপে চাকরি নেন। মঙ্গলবার সকাল ৭ টা থেকে ৯ টার মধ্যেই ফোনে এই তথ্য জানতে পারেন। আগুনে অধিক পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ ভিডিও কলেও দেখানো সম্ভব হয়নি। এমন মর্মান্তিক খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

নিহত মোহাম্মদ আপনের বাবা মুদি দোকানী আলী হোসেন সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন আর বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা কেনো যে আমার ছেলেকে পাঠালাম। অর্থের অভাবে ছেলেকে বিদেশে কেনো পাঠালাম। আল্লাহ আমাকে নিয়ে যেতে, কেন পোলারে নিলে। 
তিনি জানান, চার বছর আগে এলাকার পরিচিত রওশন মেম্বারের শপে চাকরির জন্য  পাঠিয়ে ছিলেন।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ফয়সাল হোসেনের বিষয়ে ভালো খবর পাওয়ার আশায় প্রবাসী দেবরের কাছে ফোন দেন মা। ভিডিও কলে দেবরকে ফোন দিয়ে তিনি বলেন, এক ছেলে এক মেয়ে মধ্যে ছেলেটা নাকি মরে গেছে।  ওরে ভাই পোলাডারে খুইজ্জা ভালো খবর দে।

অপরদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুন নিহত নুর মোহাম্মদের সঙ্গে গত রাতে কথা বলেছিল ছেলে মো. সিয়াম হোসেন। তিনি বলেনম বাবা জানান দেড় মাসের পারমিট নিয়েছি, কিছু কামাই হবে। তারপর চলে আসবো। বাবা এমন কথায় বলেছিলাম দেড় মাস থাকা লাগবে না চলে আসো। আজ আর বাবা নেই। 

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, আমরা সংবাদমাধ্যমে খবর পেয়েছি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। সেখান থেকে তথ্য প্রাপ্তির পরেই মরদেহ বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিহত পরিবারগুলোকে সরকারি সহযোগিতা প্রদানে আমরা প্রস্তুত আছি।

এদিকে হাইকমিশন জানায়, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাই কমিশনার শাহ আহমেদ শফী আজ দুপুরে সমো টাউন, কুইন্সটাউনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সফরকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন, নিহত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। 

এ ছাড়া, তিনি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন