শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২১:৪৩, ১৩ আগস্ট ২০২৬
লাইনে নেই গ্যাসের চাপ, ফিলিং স্টেশনেও সিএনজি’র অভাবে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। শিল্প-কারখানায়ও মিলছে না প্রয়োজনীয় গ্যাস। ফলে পুরো জেলাজুড়ে চলছে গ্যাসের জন্য হাহাকার। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাসাবাড়িতে লাইনের গ্যাসের অভাবে ব্যহত হচ্ছে গৃহিণীদের রান্নার-বান্নার কাজ। রান্নাবান্না করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। বিশেষ করে চাকরিজীবী নারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরিবারের দুর্ভোগ বেড়েছে। সময়মতো রান্না করতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কার্যক্রম।
এর ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। ফলে হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে বাড়ছে গ্রাহকদের চাপ। সাধারণ শ্রমিকদের না খেয়েই কর্মস্থানে চলে যেতে হওয়ায় পকেট ফাঁকা করেই খেতে হচ্ছে রেস্টুরেন্টে। এতে করে একদিকে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে মাস শেষে বাজেটের টাকায় ঘাটতি পড়ার আশঙ্কা। তার উপর আছে হোটেলের ভেজাল খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যহানির শঙ্কা।
তবে গ্যাসের অভাবে সৃষ্ট সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার মানুষজনের বেশিরভাগই দোকান মুখী হলেও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এসব জায়গায় বেশ কিছুদিন যাবত তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এখানকার অনেক পরিবারকেই দেখা গেছে বাধ্য হয়ে আধুনিক রান্নাঘর ছেড়ে সনাতন পদ্ধতি মাটির চুলার দিকে ঝুঁকতে। এই সুযোগে অনেকেই রেডিমেড মাটির চুলা কিংবা সিমেন্ট বালি দিয়ে একই আকৃতি চুলার তৈরি করে বিক্রি করার ব্যবসায় নেমেছেন।
কিছু কিছু পরিবার এসব রেডিমেড চুলা ক্রয় করে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। আবার কিছু পরিবার প্রবীণদের সহযোগিতা নিয়ে নিজেরাই তৈরি করছেন মাটির চুলা। এর মধ্যে ফায়দা নিচ্ছেন লাকড়ী বিক্রেতারা। সুযোগ বুঝে তারাও লাকড়ীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। তাই গ্যাসের অভাবে সৃষ্ট এই চরম দুর্ভোগ আর কর্তৃপক্ষের নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও গ্যাস সংকট নিয়ে চলছে লেখালেখি।
জেলার বিভিন্ন স্থানের সিএনজি স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না গাড়ির চালকরা। গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেক চালককে গাড়িতেই ঘুমিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সিএনজি চালিত যানবাহনগুলো বিশেষ করে ভাড়ায় চালানো সিএনজি চালিত মাইক্রো, ট্যাক্সি, সিএনজি (তিন চাকার গাড়ি) ও রাইড শেয়ারিং চালকদের আয় কমে গেছে। এরই মধ্যে সিএনজি চালিত অনেক গাড়ির চালককেই বাধ্য হয়ে ডিজেলের ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের সাথে ভাড়া নিয়ে চলছে অসন্তুষ্টি।
এই বিষয়ে ভাড়ায় চালানো গাড়ির চালকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাসের এই সংকট সৃষ্টি মাধ্যমে সরকার কি আবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করছে কি না আমাদের মনে এখন সেই ভয়ও কাজ করছে। এই গ্যাস সংকট সামনে আরও কতদিন থাকবে তা নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ আছে। এই বিষয়ে সরকারকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে তাদের দাবি।
এদিকে, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে জেলার রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। লাইনে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় কারখানার মেশিন স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। গ্যাস সংকট ও নিম্নচাপের সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জেলাজুড়ে চলা গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মনজুর আজিজ মোহন বলেন, নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৮১ হাজার গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। এখানে বেশ কিছুদিন যাবত গ্যাসের স্বল্পতা রয়েছে। আশাকরি আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং গ্যাস সরবরাহও কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।