নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিগত সরকারের রোষানলে ধ্বংসস্তুপে পরিণত

শহীদ জিয়া হল নতুন রূপে ফিরছে

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ১৭:০৯, ৩০ আগস্ট ২০২৬

শহীদ জিয়া হল নতুন রূপে ফিরছে

একটা সময় নারায়ণগঞ্জের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ জিয়া হল। যা এখনও ভাঙ্গাচুড়া কঙ্কালসার দেহ নিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন যাবত পরিত্যক্ত অবস্থা পড়ে থাকায় এবং যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শহীদ জিয়া হলটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যা যেকোন সময় ধসে পড়ে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে।

যা অপরাজনীতির রোষানলের আগুনে পুড়ে অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথের সাথে লড়াই করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে সঞ্জীবনী ছোঁয়ার আশায়। আর এবার সেই সঞ্জীবনী ছোঁয়া হয়েই যেন পাশে দাঁড়াতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)।

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটিকে নতুন প্রাণ দিতে এরই মধ্যে জাইকাকে (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি) একটি প্রস্তাবনাও দিয়েছেন বলে নাসিক সূত্রে জানা গেছে। 

এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ.এম. আনোয়ার হোসেন প্রধান প্রতিদিন সকালকে বলেন, এই হলটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে করা হয়েছে বলে বিগত সরকারের সময় অনেক চক্রান্তের কবলে পড়তে হয়েছে।

এই হলটিকে ধ্বংস করার একটি ষড়যন্ত্র তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ফলে নারায়ণগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি আবারও নতুন যৌবন ফিরে পাবে বলে আমরা আশা করি। আমাদের প্রত্যাশা হলো একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করার মাধ্যমে এই হলটিকে আধুনিকায়ন করা হবে।

যেখানে সহজলভ্যতাসহ সাস্কৃতিক চর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ ও ব্যবস্থা থাকবে। একই সাথে পর্যাপ্ত পরিমান গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। আমাদের শহরে পার্কিংয়ের জায়গার বড়ই অভাব। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে করা এই স্থাপনাটি আবারও মাথা উচু করে দাঁড়াবে। 

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, এই জিয়া হলের নামকরণ করা হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে। যিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি এদেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। বিগত ফ্যাসিবাদের সরকার বিভিন্ন সময়ই চেষ্টা করেছে এই জিয়া হলের নাম পরিবর্তন করার জন্য।

কিন্তু তারা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা কর্মীদের বাধার মুখে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এখন যেহেতু জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। সেই দলটির নেতার নামে নামকরণ করা এই হলটি যেহেতু সম্পূর্ণ ভেঙ্গে নতুন করে নতুন ডিজাইনে নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাই আমরা চাইবো অবশ্যই যেন এই স্থাপনাটি নারায়ণগঞ্জবাসীর চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়।

আমরা চাই এই জিয়া হলের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম নারায়ণগঞ্জে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকুক। এই হলটি যেন নারায়ণগঞ্জবাসীর আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে পারে আমরা সেটাই আশা প্রকাশ করছি। 

এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রতিদিন সকালকে বলেন, আমরা শহীদ জিয়া হলের কোন সংস্কার না বরং পুনর্নির্মাণের বিষয়ে কাজ করছি। এরই মধ্যে জিয়া হলের বিষয়ে আমরা জাপানী সংস্থা জাইকার সাথে কথা বলেছি এবং প্রস্তাবনাও দিয়েছি। আমাদের পরিকল্পনায় আছে কমপক্ষে একশত বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করা।

যেখানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের জন্যই সুযোগের ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের পরিকল্পনায় বড় একটি অডিটরিয়াম যেখানে এক হাজারেরও বেশি আসন থাকবে দুটি চারশত থেকে পাঁচশত আসনের অডিটরিয়াম এবং আরও ছোট আকারের আরও বেশ কয়েকটি অডিটরিয়াম প্রস্তাব আছে।

তাছাড়া নাট্য পরিচালনার জন্য অন্যান্য সুবিধার জন্যও বেশ কয়েকটি রুমের প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করতেছি আমরা শহীদ জিয়া হলকে শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে একটি আধুনিক মানের হল হিসেবে উপহার দিতে পারবো। 

স্থানীয়দের মতে, বিগত সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে থাকার কারণে ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।

তাই শহীদ জিয়ার স্মৃতি জড়িত এই ভবনটি ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণসহ আধুনিক রূপে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সেই পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে বিভিন্ন মহল থেকেই দাবি উঠে আসছিল।

তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এই কমপ্লেক্সটি পুনর্নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জবাসী একটি অত্যাধুনিক বিনোদন কেন্দ্র পাবে। যারফলে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চারণা সৃষ্টি হবে এবং এখানকার নতুন প্রজন্ম ইতিহাস, আদর্শ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে নতুন উদ্যোমে সংযুক্ত হবে। 

উল্লেখ্য ১৯৭৮ সালের ১০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে এই জিয়া হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তখন তিনি এই জিয়া হলের নামকরণ করেছিলেন ‘টাউন হল’ নামে।

এরপর ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর একই বছরের ১৯ জুলাই তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার এর নামকরণ পরিবর্তন করে ‘শহীদ জিয়া হল’ নামকরণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। স্থাপনাটি ৬০ দশমিক ৬২ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয়।

এরপর জমি সক্রান্ত মামলা জটিলতায় কারণে আনিসুল ইসলাম সানি কর্তৃক দেওয়ানী মামলা দায়ের করা হলে বেশ কিছু দিন এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলার পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে ‘শহীদ জিয়া হল’ নামটি স্বীকৃতি পায়।

আইনীভাবে নামটি স্বীকৃতি লাভ করায় ফ্যাসিস্ট সরকার ও তার দোসররা অনেক চেষ্টা করেও এর নাম পরিবর্তন করতে সফল হননি। 

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন