শিরোনাম:
পজেটিব নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:২৪, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩০, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিসাধনের দায়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং। পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের তথ্য-উপাত্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ক্ষতিপূরণের তালিকায় রয়েছে ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও, সদর ও বন্দর এলাকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে ফতুল্লার নয়ামাটির এবলুম ডিজাইন লিমিটেডের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা রূপগঞ্জের রিজেন্ট হোল্ডিংস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে।
এছাড়া ট্রেডস ওয়ার্থ হাইজভোল্ট লিমিটেডকে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডকে ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, মেসার্স সানলাইট ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজকে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪০ টাকা, পশ্চিম দেওভোগ বাংলাবাজারের কোয়ালিটি টেক্সটাইলকে ১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্টার পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিমিটেডকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর বিভিন্ন ধারার আলোকে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিসাধনের জন্য এসব ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বস্ত্র, ডাইং, নিটিং, পেপার, কেমিক্যাল ও অন্যান্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তরল ও কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকলে এসব বর্জ্য খাল, ড্রেন ও নদীতে গিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা নদী ও এর সঙ্গে যুক্ত জলাধারগুলোর দূষণ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে আসছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশগত দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এনেছে। সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ ধার্যের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে পরিবেশগত মানদণ্ড মানছে কি না, তা কতটা কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ ধার্য করলেই পরিবেশ দূষণ বন্ধ হয় না। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর তারা পরবর্তী সময়ে পরিবেশগত বিধিবিধান মেনে চলছে কি না, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকর আছে কি না এবং দূষিত বর্জ্য নির্গমন বন্ধ হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় জরিমানা পরিশোধের পর একই ধরনের দূষণ আবারও ঘটতে পারে।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায়, সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির বিরুদ্ধেই দুই লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ ধার্য হয়েছে এবলুম ডিজাইন লিমিটেডের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে স্টার পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ধার্য করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবেশগত ক্ষতির মাত্রা বা আইনগত বিবেচনায় পার্থক্য রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সেই পার্থক্যের ব্যাখ্যা নেই।
নারায়ণগঞ্জে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পকারখানা বন্ধ করে নয়, বরং পরিবেশসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করেই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। এজন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিদর্শন, দূষণের উৎস শনাক্তকরণ, কার্যকর ইটিপি নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ক্ষতি হলে দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এই ক্ষতিপূরণ আদেশের পর সংশ্লিষ্ট সাত প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত বিধি মেনে চলছে কি না এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না—সেদিকেই এখন নজর পরিবেশসচেতন নারায়ণগঞ্জবাসীর।