নারায়ণগঞ্জ  শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও অপরিবর্তিত ফুটপাত

আইভীর মতো তোপের মুখে সাখাওয়াত

বাড়ছে হকার রাজত্ব, বাড়ছে ঝুঁকি, নাশকতার আশংকা

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২২:১৩, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আইভীর মতো তোপের মুখে সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। একদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে অভিযান শেষ হতে না হতেই আবারও ফুটপাত দখল করে বসছেন হকাররা। এতে হকার উচ্ছেদ নিয়ে এক ধরনের ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা চলছে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

এরই মধ্যে হকার উচ্ছেদ করতে গিয়ে সাবেক মেয়র আইভীর মতো বাধার মুখে পড়েন নাসিক প্রশাসক এড. সাখাওয়াত খান। অনাকাঙ্খিত ঘটনার পূণরাবৃত্তির আগেই পুলিশের সুদক্ষ হস্তক্ষেপে হকররা পিছু হটে। তবে এরআগে নাসিকের লোকজনের সাথে হকরাদের এক পর্ব ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে যায়।

‎‎স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে শহরের ফুটপাতগুলোতে যতসংখ্যক হকার দেখা যেত, পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর পাশাপাশি সড়কের একাংশেও পণ্যসামগ্রী নিয়ে বসছেন অনেকে।

ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ। এছাড়াও হকারদের বর্তমান কর্মকান্ডে নানা ধরণের নাশকতার ঝুঁকির আশংকাও করছেন সচেতন মহল।

‎‎এ পরিস্থিতিতে নগরবাসীর প্রশ্ন বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও কেন ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না? হকারদের পেছনে কারা রয়েছেন, আর কার প্রশ্রয়ে তারা বারবার ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন?

‎‎একসময় নারায়ণগঞ্জে হকারদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছিল। আওয়ামী লীগের শাসনামলে হকারদের বসানোকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হকারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী।

‎‎নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই সড়কে নেমে কাজ করছেন। যানজট নিরসন ও হকার উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ‎‎তবে এসব উদ্যোগের পরও শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

একদিকে উচ্ছেদ অভিযান চলছে, অন্যদিকে আবারও ফুটপাত ও সড়কের অংশবিশেষে বসছে দোকানপাট। ফলে প্রশাসনের কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎‎নগরবাসীর অভিযোগ, আগে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেলেও বর্তমানে সেই তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে। তবে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎‎গত ২৫ অক্টোবর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ও শায়েস্তা খান সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় হকাররা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন বলে জানা গেছে।

‎একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে হকারদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

‎‎এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও হকারদের পুনরায় বসা ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

‎‎জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ নিয়ে বিরোধ নতুন নয়। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার বসানোকে কেন্দ্র করে নগরীতে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তৎকালীন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। অন্যদিকে হকারদের পুনর্বাসন ও ফুটপাতে বসার বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের সমর্থকদের বিরোধ দেখা দেয়।

‎এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে নগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করে। ১৬ জানুয়ারি বিকেলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় চাষাড়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

‎‎ওই সংঘর্ষে মেয়র আইভীসহ উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। আহত হন কয়েকজন সাংবাদিকও। ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ফুটপাত দখল ও হকার ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

‎‎নগরবাসীর মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

‎‎একই সঙ্গে ফুটপাত দখলের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন