শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২২:২৮, ১১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৯, ১১ মার্চ ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়েও দলীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয়, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী রেহানা আক্তার শিরিনের নাম।
রেহানা আক্তার শিরিন বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার একটি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা মরহুম হাজী বোরহান উদ্দীন আড়াইহাজার থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
পারিবারিকভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন রেহানা আক্তার শিরিন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি একমাত্র বোন। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয়।
বড় ভাই শেখ ফরিদ বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। মেজ ভাই খাজা মঈনুদ্দীন আড়াইহাজার থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিশনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ২০১৬ সালে ধানের শীষ প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনও করেছিলেন।
সেজ ভাই শাহজালাল বিশনন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি এবং ছোট ভাই শাহপরান আড়াইহাজার থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
২০০৭-০৮ সালে ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রেহানা আক্তার শিরিন ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দলীয় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং কারাবরণও করতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ২০২১ সালের ১ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কটূক্তির প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের হামলার শিকার হন তিনি। ওই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
এছাড়া ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় উঠে এসেছে রেহানা আক্তার শিরিনের নাম। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় হাইকমান্ড।