শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০১:২২, ৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৯, ৬ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেছেন, আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। উনি এদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবনকে আত্মত্যাগ করেছিলেন।
আপনারা জানেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় উনি একজন সাধারণ মেজর ছিলেন। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ ভয়াল রাতে যখন পাকিস্তান হানাদার বাহিনীরা এদেশের নীরব মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল।
যখন এদেশের রাজনৈতিক নেতারা এদেশের স্বাধীনতার কথা ছিল যখন তারা অনিহা প্রকাশ করল ঠিক তখনই ২৬ মার্চে একজন অক্ষত মেজর আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেটার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
উনার স্বাধীনতা ঘোষণার পরে কিন্তু বাংলাদেশে আপন মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেন। উনি এমন এক নেতা শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই উনি কিন্তু রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কিন্তু উনি ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ওনাকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত করে এদেশের শাসন বারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উনি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিকশিত করেছিলেন।
উনি মানুষের কল্যাণে খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে সমস্ত কাজগুলো এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য করেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সততার একজন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বাদ মাগরিব সিদ্ধিরগঞ্জস্থ পাঠানটুলী বাসস্ট্যান্ডে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে এলাহী সোহাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনী নিয়ে বিভিন্ন বই থেকে পড়ে জানতে পেরেছি যে বিএনপির বড় বড় নেতা রা নাকি ওনার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যেতেন না কারণ উনি কাউকে সেভাবে খাওয়াতেন না।
উনার খাবার মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, সবজি টুকরো মাছ কিংবা এক টুকরো গোস্ত। আমাদের সেই নেতা তিনি কিন্তু মৃত্যুর পরে কোন কিছু রেখে যায়নি। উনি কিন্তু এদেশের মানুষের জন্য করেছিলেন। কিন্তু দেশি- বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করেছিল এদেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য। এর মাধ্যমে কিন্তু স্বৈরাচার এরশাদের আবির্ভাব হয়।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী আমাদের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে তিনি একজন গৃহিণী থেকে বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন।
তার নেতৃত্বে ৯০ সনে এরশাদ সরকারের পতন হয়। কিন্তু এরশাদের পতন ৮৬ সালে হয়েছে তো কিন্তু সালে শেখ হাসিনা ও আরেকটি গুপ্তবাহিনী জামাতে ইসলাম স্বৈরাচারী এরশাদের সাথে মিলে তার নির্বাচনকে আরো পাকাপোক্ত করে এবং চার বছর এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন।
আমাদের নেত্রী বলেছিল আমি কোন স্বৈরাশ শাসকের সাথে আপোষ করব না। পরবর্তীতে একানব্বই নির্বাচনের তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এরপর তিনি দেশে তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং নারী শিক্ষা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি প্রথমবার ক্ষমতায় এসে মেট্রিক পর্যন্ত নারীদেরকে বিনা পয়সায় লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেন। আর ২০০১ এ ক্ষমতা আর পরে উনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদেরকে শ্রী লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।
আর আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উনি কিন্তু মেয়েদেরকে বিনামূল্যে ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছে। আমাদের নেত্রী আজকে উনি নাই উনি কিন্তু ফ্যাসিবাদ বিরুদ্ধে কিন্তু লড়াই সংগ্রাম করেছিলেন। উনি কিন্তু কারাগারে ছিলেন নির্যাতন সহ্য করেছিল কিন্তু এদেশের মানুষের কারণে কিন্তু তিনি সকল নির্যাতন সহ্য করে নিয়েছিলেন।
দেশ ও দেশের মানুষের সাথে তিনি কিন্তু কোনদিনই আপোষ করে নাই। উনি কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে যায় নাই। শেষ পর্যন্ত কিন্তু উনি এ ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার পতন দেখে গেছেন।
আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী মাগফেরাত কামনা করছি এবং আমাদের নেতার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
এসময়ে বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সু- স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে এলাহী সোহাগের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও স্ট্রার্কটি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকিবুল ইসলাম রাকিব, প্রধান বক্তা ছিলেন উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল হাসান রোকন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন কমল, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ অপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান খলিল শ্যামল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম সজিব, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ, শহিদুল ইসলাম,ওয়াদুদ ভূইয়া সাগর, পারভেজ খান, মোঃ আরমান হোসেন, কামরুল ইসলাম রনি, মিনহাজ মিঠু, আশিকুর রহমান অনি, জুয়েল রানা, কামরুল হাসান মাসুদ,আলী ইমরান শামীম, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম আপন, শাহীন শরীফ, ফয়সাল আহমেদ, সাইদুর হাসান রিপন, আরিফ খান, আলী হোসেন সৌরভ, বাদশা মিয়া, মাসুদ রানা, মাকসুদুর রহমান শাকিল, রুবেল সরদার, রিয়াজুল আলম ইমন, জুনায়েদ মোল্লা জনি, হাবিবুর রহমান মাসুদ।
এছাড়াও মহানগর যুবদলের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর থানা ও উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।