নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় বিলুপ্ত করে সংসদ সদস্যের কার্যালয়, বিতর্ক ও ক্ষোভ

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ০১:১৭, ১৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৩, ১৯ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় বিলুপ্ত করে সংসদ সদস্যের কার্যালয়, বিতর্ক ও ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বিএনপির তিন সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ছবি অপসারণসহ কার্যালয়ের সাইনবোর্ড সরিয়ে কার্যালয়টি বিলুপ্তি করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান এর কার্যালয় ঘোষণা দিয়ে সেখানে ব্যাক্তিগত সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বলেন, এটি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় বানানো হয়েছিলো। সকল নেতাকর্মীরা এখানে আসবে। এটি কারো ব্যাক্তিগত কার্যালয় নয়। তবে চাইলে সংসদ সদস্য কার্যালয়টি ব্যাবহার করতে পারতেন। কিন্তু এভাবে জেলা বিএনপির কার্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে পুরো ব্যক্তিগত কার্যালয় বানানোটা ঠিক হয়নি।

জানা গেছে, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের অনুসারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ ১০/১৫ জন বৃহস্পতিবার সকালে ওই কার্যালয়ে আসেন।

তাঁরা জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড সরিয়ে সেখানে ‘মাননীয় সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৩’র সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়’ লেখা নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। একই সঙ্গে কার্যালয়ের ভেতরে শুধু আজহারুল ইসলামের ছবি রেখে অন্য সংসদ সদস্যদের ছবি অপসারণ করা হয়।

এরআগে গত ১০ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমজী মুন লাইট সিনেমা হলের সামনে জেলা বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। প্রধান ফটকের ওপরে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’ লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। 

কার্যালয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছবি টাঙানো ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, এমপি সাহেব (আজহারুল ইসলাম মান্নান) সপ্তাহে এক দিন এখানে বসে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন।

তিন এমপির ছবি সরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অফিসের ভেতরে কাজ চলছে, এ কারণে তাদের অন্য তিন এমপির ছবি সরানো হয়েছে। 

জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড সরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওইটাও থাকব।’

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, এটা জেলার কার্যালয় নয়। জেলা বিএনপির অফিস জেলার ভেতরে থাকবে। সেখানে কোনো এমপির ছবি থাকবে না। শুধু থাকবে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি থাকবে।

অন্য এমপিদের ছবি সরিয়ে তাঁর ছবি রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থানা কার্যালয়ে স্থানীয় এমপি হিসেবে আমার ছবি থাকতেই পারে। এটা দোষের কিছু নয়।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ  বলেন, জেলা বিএনপির কার্যালয় দলীয় সবার জন্য উন্মুক্ত। দলীয় যেকোনো ব্যক্তি কিংবা দল মনোনীত ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সেখানে বসতে পারেন। তবে এটি কারও ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়। 

তিনি আরও বলেন যেভাবে সংসদ সদস্যের ছবি রেখে অন্য সংসদ সদস্যদের ছবি নামানো হয়েছে এবং জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তা দৃষ্টিকটু ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।

উল্লেখ্য,  ১০ জানুয়ারি অফিসটি মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৪ এর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব, শরীফ আহমেদ টুটুল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী ভুঁইয়া, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রহিমা শরীফ মায়াসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন