শিরোনাম:
পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৩:২১, ১৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২৮, ১৯ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জকে আবারও তার হারানো অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, একসময় নারায়ণগঞ্জ ছিল দেশের শিল্প রাজধানী। কিন্তু নানা কারণে সেই গৌরব ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নারায়ণগঞ্জকে তার হারানো অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা এবং গডফাদার সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলো। ত্বকী হত্যার বিচার নারায়ণগঞ্জের মানুষ পায়নি। শুধু ত্বকী না দফায় দফায় লাশ নারায়ণগঞ্জকে উপহার দেওয়া হয়েছে।
কেউ কেউ হুংকার দিয়ে বলতেন, খেলা হবে। এখন কি আর বলে খেলা হবে? হুংকার দেওয়া ভালো নয়। অহংকার আল্লাহর চাদর। নতুন করে নারায়ণগঞ্জে গডফাদার তৈরি হোক এটা নারায়ণগঞ্জবাসী চায় না।
এ সময় তিনি দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক শাসনব্যবস্থা চালানোর চেষ্টা করা হলে জনগণই তার বিরুদ্ধে হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ হয়েছিলো বলেই ২৬ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। ২৪ যদি না হতো ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো না। সুতরাং যাদের রক্ত এবং ত্যাগের কারণে আজকের সরকার-বিরোধী দল, তারা যদি ওই সমস্ত শহীদ পরিবার আহত ভাইবোনদের অবজ্ঞা করেন তাহলে নিজের সাথেই গাদ্দারির শামিল হবে। আমরা অনুরোধ করবো, এসমস্ত লড়াকু যোদ্ধাদের অবদানকে যেন খাটো করে দেখা না হয়।
তিনি বলেন, সরকারি দল প্রথমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ছিলো না। তারা চুপ ছিলো। নীরবে নীরবে ‘না’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিল। এরপর জনরোষের মুখে পড়ে শহীদ আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। একবারই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছিলেন। সেই গণভোটে ৬৭.৮ পার্সেন্ট ভোটের মূল্য কি দিলেন তিনি?
জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হতে পারে না।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়ে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একদলীয় শাসন কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি অতীতে আওয়ামী লীগ চালু করেছিল। এখন সেই একই ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না। তরুণ প্রজন্ম বিভাজনের রাজনীতি নয়, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব দেখতে চায়।
বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, তবে সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হয়েছে, সেই পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে না।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যোগ্য, সৎ ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াত ইসলামের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারকে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জনগণের স্বার্থে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটারদের সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের দিকে কালো হাত বাড়ানো হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার জন্য ক্ষতিকর।
জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের বাইরে রাখতে না পারলে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।
বক্তব্যের শেষে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে এবং দেশের স্বার্থে সৎ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রত্যাশা করে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।