শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৯:২৬, ২ আগস্ট ২০২৬
সম্প্রতি দেশজুড়েই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাথে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিএনপিকে নিয়ে করা কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এরই মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। এর জবাব দিতে ছাড়েননি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এনসিপি সমর্থিত সংসদ সদস্য আব্দূল্লাহ আলআামিন।
রবিবার (২ আগস্ট) সাংসদ আলআমিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে নিয়ে বেশ কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। যেখানে তিনি বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, ঝুট ব্যবসার দখল এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলি, এমনকি নিজ দলীয় কোন নেতা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে কথা বললেও তাকে সেই ফ্যাসিস্টের ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ এনে সমালোচনা করে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকে এনসিপি সমর্থিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দূল্লাহ আলআামিনের বক্তব্যটি হুবুহু তুলে ধরা হলো- অদ্ভুত ব্যাপার! কথা বললাম চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কিন্তু গায়ে লাগে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাদের। অথচ নারায়ণগঞ্জে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাস-টেম্পুস্ট্যান্ড, ব্যাবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি করেছে কারা, সেটা সবাই জানে।
এমনকি ফতুল্লায় গার্মেন্টস পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করে পুলিশের করা মামলায় এরেস্ট এবং বহিষ্কার হওয়া রিয়াদ চৌধুরী তাদের নেতা। এমন লোককে নেতা মানতে তাদের গায়ে লাগে না, লজ্জা করে না। কেউ সেটা মনে করায়ে দিলে গায়ে লাগে!
ঝুঁট ব্যবসার দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপ গোলাগুলি করে মাদ্রাসার ১০বছরের নিরীহ বাচ্চাকে গুলিবিদ্ধ করেছে, সেটাতে তাদের খারাপ লাগে না। খারাপ লাগে ঝুঁট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বললে। ঝুঁট সন্ত্রাস করে জেল খাটা ছাত্রদল নেতাও এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলে, নূন্যতম লজ্জাও নাই!
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাতের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের গায়ে লাগে, খারাপ লাগে অথচ মাদক ব্যবসায়ী/ডাকাতদের দলে পদ দিতে লজ্জা করে না!
আবার বললাম নৌকা মার্কার অবৈধ নির্বাচনের চেয়ারম্যানদের ব্যাপারে কিন্তু গায়ে লাগে বিএনপি নেতাদের। অথচ আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকার চেয়ারম্যানকে নেতা মানতে তাদের লজ্জা করে না!
নারায়ণগঞ্জের নিরীহ বাচ্চারা শহীদ হওয়ার পরেও যে ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে সমর্থন জানিয়েছে সরাসরি, এমনকি জনগণের আন্দোলনকে ‘তান্ডব’ বলেছে সেই হাতেমকে ফ্যাসিস্ট দোসর বললে গায়ে লাগে বিএনপি নেতাদের। লজ্জাও লাগেনা!
তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি একজন ত্যাগী আন্দোলন করা নেতা। সে যখন হাতেমকে ফ্যাসিস্ট বলে বিতারিত করেছে কলেজ থেকে, তখন বিএনপির নেতারা তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে!
ছাত্রদলের একজন জুলাই যোদ্ধাকে ফ্যাসিস্ট দোসরের কাছে মাফ চাইতে বাধ্য করাতে বিন্দুমাত্র লজ্জাও করেনা। লজ্জা লাগে কেউ সেটা নিয়ে কথা বললে।
চাঁদাবাজির কারণে এম্পির ছেলে বহিষ্কার হয়, আটক হয়। যুবদলের সেক্রেটারি শোকজ হয়। এইসবে তাদের লজ্জা লাগে না। লজ্জা লাগে কেউ সেটা বলতে গেলে।
চাঁদাবাজ কাউকে চাঁদাবাজ বললে, গুন্ডা-সন্ত্রাসী কাউকে সন্ত্রাসী বললে, মাদক ব্যবসায়ী কাউকে মাদক ব্যবসায়ী বললে, আওয়ামী লীগের কাউকে আওয়ামী লীগ বললে, ফ্যাসিস্ট দোসর কাউকে ফ্যাসিস্ট দোসর বললে, যদি আপনার লজ্জা লাগে, গায়ে লাগে, উস্কানি মনে হয়, শরীর চুলকায়, তাহলে দয়া করে চুলকানির মলম ইউজ করেন। নিজেদের সংশোধন করেন। গুন্ডামী কইরেন না। এইসব গুন্ডামী পাত্তা দেয়ার কিছু নাই।
আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিস্ট ছাড়া কারো সাথে আমাদের শত্রুতা নাই। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা বিগত বছরগুলোতে মাঠে ছিলো তাদের প্রতি আমাদের বরং শ্রদ্ধা আছে। তবে অপকর্ম করলে আমরা কথা বলবোই। মানুষ পরিবর্তন চায় বলেই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। মানুষ জালেম অথবা মজলুম কারো হাতেই আর জুলুমের শিকার হতে চায় না।
আর একটা কথা, যেসব অর্বাচীনরা আমাদের চিনেন না, তারা আপনাদের নেতাদের থেকে জেনে নিয়েন, নারায়ণগঞ্জ কোর্টে খোঁজ নিয়েন।
এই না.গঞ্জেই আমার বিরুদ্ধে ১৭টা রাজনৈতিক মামলা ছিলো। এরেস্ট হয়েছি, রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পিটিয়ে আমার ডানহাত ভেঙে দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা দেয় নাই ১৫দিন, তারপর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে৷
জেল খেটেছি বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ভাই, ডিআইটি পীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল সাহেবসহ একসাথে। তবুও তো একদিনের জন্যও হাসিনাকে পরোয়া করি নাই। ওসমানদের চাটাচাটি করি নাই।
এখন গণঅভ্যুত্থানের পরে এসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে দ্বিধা করবো, এটা কেউ ভাবলে তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আপনাদের ছাত্রদলের নেতারা চাঁদার ভাগ না পেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাহাকার কেন করে সে আত্মসমালোচনা করেন আগে। আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ঝুঁট দখল, মাদক ব্যবসার টাকায় রাজনীতি করি না।
১০টাকা টেম্পুস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়ালেখা করি নাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে আমাদের কারো পরোয়া করতে হয় না, কারণ আমরা কোন অন্যায় থেকে সুবিধা নেই না, আলহামদুলিল্লাহ।