নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

তোলারাম কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ : আহত ১০

পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২০:০২, ৫ আগস্ট ২০২৬

তোলারাম কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ : আহত ১০

নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসেন উত্তেজনা সৃস্টি হয়।

এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তা চাষাড়া কলেজ রোড, জামতলা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি ইমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ, মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান, অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ছাত্রদলের কর্মী তুহিন আহমেদ ও রবিন এর নাম জানা গেছে।  এরা সবাই স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করে।

ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি অমিত হাসান দাবি করেন, তাদের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাস দখলের জন্য ঝামেলা করছে। শিবিরের কারণে তারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করতে পারছে না।

এজন্য শিবিরের ওপর হামলা করেছে। হামলার নেতৃত্বে ছিল তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া, সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক, সাবেক সভাপতি পায়েল, তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক খান সুজন, সদর থানা ছাত্রদল নেতা মিলন, কদমরসূল কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাত, তোলারাম কলেজ ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন।

তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আলোচনা সভায় ছাত্রশিবিরের নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে তাদের কর্মী তুহিন আহমেদ ও রবিনহর অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, তারা চাষাড়া শহীদ মিনারে লোকজন জড়ো করে রেখেছে। আমরা মাত্র ২০/৩০জন ছিলাম। ওদের মনে হয়েছে আমরা ওদের মারবো। আমরা কেন মারবো, আমাদের সরকার। এটা তো আমাদের বদনাম। আমাদের এমন ইন্টেনশন ছিল না। তারা যে এভাবে হামলা করবে আমরা কল্পনাও করিনি। এই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ছিল, এখনও আছে। কিন্তু উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে কলেজে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে গেটের বাইরে একজন আহত হওয়ার খবর পাই। পরে জানতে পারি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে সংঘর্ষের পর দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। এরপরও ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীদের কলেজ রোড, চাষাড়া, জামতলা ও কালিরবাজার এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করতে দেখা যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসানুজ্জামান জানান, কলেজের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ খবর পেয়ে এখানে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই পক্ষকে শান্ত করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন