শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৯:০২, ১৯ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৯ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় এই সংঘাতের ঘটনাটি ঘটে।
বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা, সম্পর্কে আপন দুই ভাই এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের রেষারেষিতে তাদের অনুসারীদের মধ্যে এই সংংঘর্ষের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল সম্পর্কে আপন ভাই। তাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রায়ই এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
বুধবার সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের আবুবক্কর সিদ্দিক, মফিজুল ইসলাম, ইয়ানবী, বাবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুল জলিল পক্ষের সবুর খান ও আব্দুল লতিফসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই দুই ভাইয়ের কোন্দল নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগেও তাদের বিরোধের জেরে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে থানায় মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ দাবি করেন, প্রতিপক্ষ গ্রুপ এর আগেও তার লোকজনের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। দীর্ঘ দুই মাস বিরতির পর আজ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে তার ও তার লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল দাবি করেন যে, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ তার এক অনুসারীকে একা পেয়ে আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে তাকেও কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয় এবং আশপাশের লোকজনের চিৎকারে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একটি কুচক্রী মহল বা তৃতীয় পক্ষ দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এসব করাচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে আলোচনা করে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠায় এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।